প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা ‘ভালো হয়েছে’। রোববার তিনি এ কথা বলেন, যখন কানাডার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক শুল্ক আরোপের কারণে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছিল।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
কার্নি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বার্তায় উল্লেখ করেন, সর্বশেষ আলোচনায় পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি বাণিজ্য চুক্তির রূপরেখা নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা আরও এগিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এ লক্ষ্য অর্জনে আগামী কয়েক সপ্তাহ আমাদের দুই দেশের প্রতিনিধিদল কাজ করবে।’
ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে বন্ধু ও প্রতিদ্বন্দ্বী—উভয় দেশের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করে বিশ্ববাণিজ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন। কানাডা, যা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার, বারবার তার শুল্কনীতির লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
গত আগস্টে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর ট্রাম্প কানাডার বিভিন্ন পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে এসব শুল্কের কিছু প্রত্যাহার করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের কাছে জীবনযাত্রার ব্যয় ও পণ্যের ক্রয়ক্ষমতা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। ট্রাম্পের শুল্কনীতি দেশটিতে মূল্যস্ফীতি বাড়াতেও ভূমিকা রেখেছে।
আগস্টে আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর আরোপিত শুল্কের আওতায় হকি খেলার স্টিক থেকে শুরু করে সিমেন্ট পর্যন্ত প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য অন্তর্ভুক্ত হয়।
এর জবাবে কানাডাও সমপরিমাণ মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করে। পরে ট্রাম্প কিছু পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক আরোপ করেন।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, কানাডার সঙ্গে শিগগিরই একটি নতুন বাণিজ্য চুক্তি হতে পারে। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
রোববার কার্নির সঙ্গে সর্বশেষ আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন ট্রাম্পও। আইওয়ায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচার অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, কানাডার সঙ্গে ‘খুব ভালো একটি চুক্তির রূপরেখা’ তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এমন একটি চুক্তির ধারণা পেয়েছি, যা আমাদের কৃষক ও দেশের জন্য দারুণ হবে এবং কানাডার জন্যও ভালো হবে।’
তিনি আরও জানান, প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তিতে কিস্টোন এক্সএল পাইপলাইন নির্মাণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পরিবেশবাদীরা দীর্ঘদিন ধরে এ প্রকল্পের বিরোধিতা করে আসছেন। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের শাসনামলে প্রকল্পটি স্থগিত করা হয়েছিল।
এদিকে, ট্রাম্পের অনিশ্চিত ও ঘন ঘন পরিবর্তনশীল বাণিজ্যনীতির কারণে কানাডা অন্যান্য মিত্র দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করছে।
গত শুক্রবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও কানাডা একটি নতুন অংশীদারত্বের ঘোষণা দিয়েছে। এর আওতায় কানাডা ইইউর প্রথম ‘সহযোগী সদস্য’ হওয়ার সুযোগ পাবে। তবে এ পদবির ব্যবহার নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে কিছু মতপার্থক্য রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন