প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কঙ্গোর গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের তানগানিকা হ্রদে একটি যাত্রীবাহী নৌকা ডুবে অন্তত ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ৪৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে, এখনও কিছু যাত্রী নিখোঁজ রয়েছে এবং তাদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানাচ্ছে, তানগানিকা প্রদেশের পরিবহনমন্ত্রী নরিস মুলঙ্গোইয়ি বার্তা সংস্থা এপিকে জানিয়েছেন, নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধারকারী দল কাজ করছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটিতে প্রায় ১০০ জন যাত্রী ছিলেন, যাদের সঙ্গে কিছু পণ্যও ছিল। কঙ্গোর মাপেরা গ্রামের কাছে তানগানিকা হ্রদে নৌকাটি ডুবে যায়। নৌকাটি বৃহস্পতিবার তানজানিয়ার কিগোমা বন্দর থেকে কঙ্গোর কালেমি শহরের দিকে যাত্রা শুরু করেছিল। গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই এটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। দুর্ঘটনাটি থেকে বেঁচে যাওয়া এক যাত্রী অ্যানি মোয়োনি রেডিও ওকাপিকে ঘটনাটি সম্পর্কে জানান। জাতিসংঘের সহযোগিতায় পরিচালিত এই সম্প্রচারমাধ্যমকে তিনি বলেন, রাত ১টার দিকে যাত্রীদের ঘুম থেকে জাগানো হয়। তখন তারা দেখতে পান, নৌকাটি একদিকে কাত হয়ে গেছে। এরপর কীভাবে নৌকাটি পুরোপুরি ডুবে যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি। দুর্ঘটনার কারণও এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আরো পড়ুন
কঙ্গোর বিভিন্ন অঞ্চলে নৌপথে যাতায়াত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে দুর্গম এলাকার অনেক মানুষের জন্য নৌকায় যাতায়াতই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ এবং কম খরচের উপায়। তবে, দেশটিতে নৌযান চলাচলে বিভিন্ন সমস্যা বিদ্যমান। এপির তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কঙ্গোতে একাধিক নৌকাডুবির ঘটনায় শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অনেক সময় নৌকায় ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী তোলা হয়। আবার কিছু নৌযানে পর্যাপ্ত জীবনরক্ষাকারী জ্যাকেটও থাকে না। এসব কারণে দুর্ঘটনা ঘটলে প্রাণহানির ঝুঁকি বেড়ে যায়। কঙ্গো বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ, যেখানে জনসংখ্যা ১০ কোটির বেশি। এত বড় জনসংখ্যার তুলনায় সড়কসহ অন্যান্য যোগাযোগব্যবস্থাও যথেষ্ট নয়। ফলে অনেক মানুষকে যাতায়াতের জন্য নৌপথের ওপর নির্ভর করতে হয়।
আরো পড়ুন
জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ ১৫ আমল
কিগোমা-কালেমি নৌপথে এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এটি দ্বিতীয় বড় দুর্ঘটনা। রেডিও ওকাপির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ আগস্ট কঙ্গোর একটি নৌযান কিগোমা বন্দরে জ্বালানি নেওয়ার সময় আগুন ধরে যায়। পরে নৌকাটিতে বিস্ফোরণ ঘটে। বন্দর কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে রেডিও ওকাপি জানিয়েছে, ওই ঘটনায় নৌকাটির ছয়জন কর্মী মারা যান এবং আরো একজন নিখোঁজ হন। এমভি প্যাসিফিক নামের ওই নৌকাটি কিগোমা ও কালেমির মধ্যে চলাচল করত এবং মূলত জ্বালানি পরিবহনে ব্যবহৃত হতো। এর আগে গত জুলাইয়ে মধ্য কঙ্গোতেও একটি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে, যেখানে রাষ্ট্রীয় পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় শিক্ষার্থীদের বহনকারী একটি কাঠের নৌকা ডুবে যায়। ওই দুর্ঘটনায় অন্তত ২০ জন মারা যান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন