প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান চুক্তির খসড়ায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর কোনো সীমাবদ্ধতা উল্লিখিত হয়নি। তাছাড়া, ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিল এবং তেহরানের আঞ্চলিক প্রভাব বাড়ানোর সম্ভাবনা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে।
এই সব কারণে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে অন্তর্বর্তী এই চুক্তি নিয়ে হতাশা দেখা দিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক স্বাভাবিক হলেও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটতে পারে।
তবে, এ পরিস্থিতিতে ইরানের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রাথমিক শান্তি চুক্তি সম্পর্কে সন্দিহান উপসাগরীয় দেশগুলোকে আশ্বস্ত করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বুধবার রাতের স্থানীয় সময়ে বাহরাইনের রাজধানী মানামায় পৌঁছান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, এটি ছিল তিন দিনের আঞ্চলিক সফরের শেষ পর্যায়। এর আগে, তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত সফর করেছিলেন।
বৃহস্পতিবার, উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর মিত্রদের আশ্বস্ত করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যে কোনো চুক্তি তাদের নিরাপত্তা ও স্বার্থের কথা মনে রেখেই করা হবে। আমরা এমন কোনো পদক্ষেপ নেব না যা এই অঞ্চলে আমাদের দীর্ঘদিনের মিত্রদের নিরাপত্তাকে ক্ষুণ্ণ করে।’
বাহরাইনে অনুষ্ঠিত উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে রুবিও উল্লেখ করেন, ওয়াশিংটন দীর্ঘকালীন প্রতিপক্ষ ইরানের সঙ্গে একটি স্থায়ী শান্তি করতে চায়, যা অঞ্চলের মিত্রদের নিরাপত্তা ও উন্নয়নকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না।
বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল লতিফ বিন রাশিদ আল জায়ানি বৈঠকে ওমানের প্রস্তাবিত নিরাপদ নৌ-চলাচল করিডোরকে স্বাগত জানিয়েছেন। এই করিডোরটি হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে জাহাজ চলাচল সহজ করতে সহায়ক হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এদিকে, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির উদ্দেশ্যে একটি কাঠামোগত সমঝোতা হওয়ার পর, রুবিওর এই সফর ছিল প্রথম উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক উদ্যোগ। সংঘাত শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে।
স্ক সফরের সময়, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতে, রুবিও আঞ্চলিক নেতাদের বোঝানোর চেষ্টা করেন যে প্রস্তাবিত চুক্তিটি ইরানের জন্য অতিরিক্ত সুবিধাজনক নয়। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমরা এমন কিছু করব না যা আমাদের দীর্ঘ দিনের আঞ্চলিক মিত্রদের নিরাপত্তাকে দুর্বল করে।
তবে, চুক্তির বিভিন্ন শর্ত নিয়ে এখনও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মতপার্থক্য বিদ্যমান। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরান অনির্দিষ্টকালের জন্য পারমাণবিক স্থাপনায় আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে, কিন্তু তেহরান এ দাবি অস্বীকার করেছে।
এছাড়া, ইরানের জন্য আর্থিক প্রণোদনা, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং লেবাননে চলমান সংঘাতের মতো বিষয়গুলোতে দুপক্ষের বক্তব্যে অসঙ্গতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
জিসিসিভুক্ত দেশগুলো (সৌদি আরব, কাতার, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং কুয়েত) যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মিত্র। যুদ্ধে তারা বিভিন্নভাবে ওয়াশিংটনকে সহায়তা করেছে, কিন্তু একই সঙ্গে ইরানি হামলারও শিকার হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন