প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিগত কয়েক বছরে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের বার দেশে এসেছে। বর্তমানে এসব স্বর্ণের বাজারমূল্য ৫ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকার বেশি। গত চার অর্থবছরে ২৮ দশমিক ৩৫ মেট্রিক টন ওজনের ২ লাখ ৪৩ হাজার স্বর্ণের বার বৈধ করা হয়েছে। অবৈধভাবে আনার সময় ১৩৩ কেজি ওজনের ১ হাজার ১৪১টি বার জব্দ করা হয়েছে।
দেশের অলংকারের বাজারে এসব স্বর্ণের বার ব্যবহার হয়নি বলে দাবি করেছেন জুয়েলার্স সমিতির নেতারা। এই অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, আসলে এসব স্বর্ণের বারের গন্তব্য কোথায়?
বিদেশ থেকে আনা স্বর্ণের বার শুল্ক দিয়ে বৈধ করতে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাস্টমসের সামনে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা প্রতিটি ফ্লাইট অবতরণের পর যাত্রীদের ভিড়ে তৈরি হয় এই জট। এই দৃশ্যই নির্দেশ করে, প্রতিদিন এই রুট দিয়ে কত পরিমাণ স্বর্ণের বার দেশে আসছে।
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন নূর হোসেন জানিয়েছেন, শ্রমজীবী মানুষেরা এই বিমানবন্দর দিয়ে বেশি যাতায়াত করেন। তাদের বেশিরভাগই মধ্যপ্রাচ্যে যান। সেখানে বাংলাদেশের তুলনায় স্বর্ণের দাম কিছুটা কম এবং স্বর্ণের বিশুদ্ধতা বাংলাদেশের তুলনায় বেশি হতে পারে। এ কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে স্বর্ণের বার আনার প্রতি অনেকের আগ্রহ রয়েছে।
শাহ আমানত বিমানবন্দরের তথ্য অনুযায়ী, গত চার অর্থবছরে ২৮ দশমিক ৩৫ মেট্রিক টন ওজনের ২ লাখ ৪৩ হাজার পিস স্বর্ণের বার বৈধ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২২-২৩ অর্থবছরে রেকর্ড ১ লাখ ৭২ হাজার ৫১৪ পিস স্বর্ণের বার বৈধ করা হয়। প্রতিটি বার ১০ ভরি ওজনের হিসাবে এসব স্বর্ণের বর্তমান বাজারমূল্য ৫ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকার বেশি।
অন্যদিকে, অবৈধভাবে স্বর্ণ পাচারের সময় ১৩৩ কেজি ওজনের ১ হাজার ১৪১টি বার জব্দ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন বলেছেন, স্বর্ণ পাচারের সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেটের সদস্যরা বাহকদের ব্যবহার করে। অনেক সময় প্রকৃত হোতারা আড়ালেই থেকে যায়। ফলে শেষ পর্যন্ত নিরীহ সাধারণ বাহকরাই আইনের আওতায় আসেন।
সরকার নির্ধারিত শুল্ক পরিশোধ করে বৈধভাবে আনা স্বর্ণের বার নিয়ে যাত্রীরা বিমানবন্দর ছাড়লেও অবৈধ স্বর্ণ জব্দের ঘটনায় নগরীর পতেঙ্গা থানায় মামলা হয়। এসব মামলার তদন্ত করে পুলিশ। কিন্তু নানা জটিলতায় এখন পর্যন্ত বাহক ছাড়া পেছনের কোনো হোতার সন্ধান পায়নি তারা।
সিএমপির উপকমিশনার (বন্দর) মো. আমিরুল ইসলাম বলেছেন, শুধু বাহককে গ্রেফতার করা হয়, পেছনের ব্যক্তিদের ধরা হয় না; এমন অভিযোগ সঠিক নয়। তদন্তে যাদের নাম ও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হয়।
এদিকে, সারাদেশে বিভিন্ন মার্কেট ও বিপণিবিতানে বড় জুয়েলারি শপসহ ছোট-বড় অন্তত ৫০ হাজার স্বর্ণালংকারের দোকান রয়েছে। তবে বিদেশ থেকে আসা বৈধ কিংবা অবৈধ অধিকাংশ স্বর্ণের বারের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের। এতে প্রশ্ন থেকেই যায়, এত স্বর্ণের বার শেষ পর্যন্ত কোথায় যাচ্ছে?
চট্টগ্রাম বাজুসের চেয়ারম্যান নূরুল আবসার চৌধুরী জানিয়েছেন, যারা স্বর্ণের বার আনছেন, তারা মূলত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ব্যবহারের জন্যই আনছেন। কিছু স্বর্ণ তারা দোকানদারদের দিয়ে অলংকার তৈরি করিয়ে নেন।
চট্টগ্রাম বাজুসের মহাসচিব প্রণব সাহা বলেছেন, যাত্রীরা ব্যাগেজের মাধ্যমে স্বর্ণ নিয়ে আসেন। সেগুলো আমরা কিনে নিই, এটাই আমাদের কাজ। তবে স্বর্ণের বার কারা আনছেন, কারা ব্যবহার করছেন, সে বিষয়ে আমাদের জানা নেই। বিষয়টি যারা আনেন, যারা ব্যবহার করেন এবং প্রশাসন জানে।
বর্তমানে ১০০ গ্রাম ওজনের প্রতিটি স্বর্ণের বারের দাম ১৯ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। অন্যদিকে, প্রতি ভরি স্বর্ণালংকারের দাম ২ লাখ ২৯ হাজার ৬৬৪ টাকা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন