প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাসপাতাল প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাকির হোসেনের কাছে সিলগালা খামে এই প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটি।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাঈনউদ্দীন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অগ্নিকাণ্ডের কারণ, যদি কারো গাফিলতি থাকে তবে তা চিহ্নিত করা, প্রয়োজনীয় সুপারিশ, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে করণীয় এবং অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণসহ সার্বিক বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, সোমবার বিকেলে কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে যে সুপারিশগুলো করা হয়েছে, সেগুলোর ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে তিনি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কারো নাম উল্লেখ করে দোষী বলার ব্যাপারে রাজি হননি।
এর আগে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের অষ্টম তলায় লিফট কন্ট্রোল রুম অতিরিক্ত গরম হয়ে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় বলে ধারণা করে ফায়ার সার্ভিস। এ সময় আগুন ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি প্রচণ্ড ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন ও ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে আসে। এই ঘটনায় ছয়জনের মৃত্যুর খবর পুলিশের বরাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
অগ্নিকাণ্ডের দিন সোমবার রাতেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রধান করা হয় হাসপাতালের মেডিসিন ইউনিটের প্রধান অধ্যাপক ডা. গোলাম রহমানকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মাঈনউদ্দীন খান, ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অর্ণব বিশ্বাস, গণপূর্ত বিভাগের আওতাধীন নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মাজেদুর রহমান এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ময়মনসিংহের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী।
জানা যায়, হাসপাতালের লিফটগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার দায়িত্ব গণপূর্ত অধিদপ্তরের। লিফট কন্ট্রোল রুমে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটিতে গণপূর্ত বিভাগের দুই কর্মকর্তাকে রাখায় সমালোচনা হয়। তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সচেতন মহলের কেউ কেউ। এর পরিপ্রেক্ষিতে আগের পাঁচ সদস্যের কমিটি বাতিল করে মঙ্গলবার নতুন ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। নতুন কমিটি থেকে গণপূর্ত বিভাগের ওই দুই কর্মকর্তাকে বাদ দেওয়া হয়।
হাসপাতাল প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা প্রথমে নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০ সেপ্টেম্বর। তবে তদন্ত শেষ না হওয়ায় সময় পাঁচ কার্যদিবস বাড়ানো হয়। সে অনুযায়ী ২৪ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা ছিল। ওই সময়ের মধ্যেও তদন্ত শেষ না হওয়ায় আরো তিন কার্যদিবস সময় বাড়ানো হয়। পরে সোমবার কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন