প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শুধু বিচারপতি বা বেঞ্চের সংখ্যা বৃদ্ধি করে উচ্চ আদালতের মামলাজট সমাধান করা সম্ভব নয়। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল মন্তব্য করেছেন যে, বিদ্যমান বেঞ্চগুলোর মামলা নিষ্পত্তির গতি বৃদ্ধি করাও অত্যন্ত জরুরি। তিনি গাজীপুরের একটি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী হেনস্তার ঘটনায় আবেগের পরিবর্তে আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
রোববার (২৫ অক্টোবর) তিনি নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন। মামলাজট সমাধানে বেঞ্চের সংখ্যা বাড়ানোর পরিবর্তে বিদ্যমান বেঞ্চগুলোর কার্যকারিতা ও মামলা নিষ্পত্তির হার মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত মামলার জন্য গঠিত একটি বেঞ্চ ৩০ থেকে ৩৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রায় ২৪টি মৃত্যুদণ্ডাদেশসংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তি করেছে। তবে, একই ধরনের এখতিয়ারসম্পন্ন অন্যান্য বেঞ্চগুলো একই সময়ে সমপরিমাণ মামলা নিষ্পত্তি করতে পারছে কি না, তা পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে থাকা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মামলার নিষ্পত্তি দ্রুত হওয়া প্রয়োজন। যদি কেউ দোষী প্রমাণিত হয়, তাহলে তাঁকে সাজা ভোগ করতে হবে, আর নির্দোষ প্রমাণিত হলে খালাস পেতে হবে। তাই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমানো অত্যন্ত জরুরি।
অ্যাটর্নি জেনারেল উল্লেখ করেন, মামলার চাপ বিবেচনায় প্রধান বিচারপতি প্রয়োজন অনুসারে বেঞ্চ বা বিচারপতির সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন। তবে, শুধুমাত্র বেঞ্চের সংখ্যা বৃদ্ধি করে মামলার স্তূপ কমানো সম্ভব নয়। কোন বেঞ্চ কতসংখ্যক মামলা নিষ্পত্তি করছে এবং কোথায় দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে, তা পর্যালোচনা করে বিচারিক কার্যক্রমের গতি বাড়াতে হবে।
এদিকে, গাজীপুরের একটি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী হেনস্তার ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনার সমাধান আবেগের বশবর্তী হয়ে না করে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হওয়া উচিত। ঘটনার সুষ্ঠু নিষ্পত্তির জন্য আইন ও যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি।
অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্টের এজলাসে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এজলাসে জায়গার স্বল্পতা এবং আইনজীবীদের বিপুল উপস্থিতির কারণে সাংবাদিকদের প্রবেশের ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে নির্দিষ্টসংখ্যক প্রতিনিধিকে এজলাসে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব এসেছে। বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
তিনি জানান, সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকারের বিষয়টি গতকালও সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। এ সময় দুইজন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলও তাঁর সঙ্গে ছিলেন। বিষয়টি সমাধানে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন