প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে বাবু ওরফে আব্দুল্লাহ (২৬) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ সংঘর্ষে নিহতের ভাইসহ আরও দুইজন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নরসিংদী শহরের চৌয়ালা এলাকার লোকমান হোসেন পৌর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পেছনে সংঘর্ষের এই ঘটনা ঘটে।
নিহত বাবু ওরফে আব্দুল্লাহ এবং আহত তার ভাই রুবেল (৩০) উভয়েই চৌয়ালা এলাকার আবদুল কাদেরের সন্তান। আহত অপর ব্যক্তি মিরাজ (২০) একই এলাকার জাকির হোসেনের ছেলে, যিনি প্রতিপক্ষ গ্রুপের সদস্য।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চৌয়ালা এলাকায় হেলাল ও আবু লাল গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের কারণে বিভিন্ন সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয়দের মতে, সম্প্রতি দুই পক্ষের বিরোধের জেরে কয়েক দফা হামলার ঘটনা ঘটে। গত বুধবার আবু লাল গ্রুপের সদস্যরা হেলাল গ্রুপের শফিকুল নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে আহত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে বাবুসহ কয়েকজন আহত শফিকুলকে হাসপাতালে নিয়ে যান। এর ফলস্বরূপ শুক্রবার বিকেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
এ সময় গুলিতে বাবু গুরুতর আহত হন। পাশাপাশি মিরাজ এবং বাবুর ভাই রুবেলও আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক বাবু ওরফে আব্দুল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত রুবেলকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়, এবং মিরাজকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নিহতের ভাই রুবেল অভিযোগ করেন, এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই আবু লাল ও হেলাল গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। তাদের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। শুক্রবার বিকেলে আবু লাল ২০ থেকে ২৫ জন লোক নিয়ে তার ভাইকে গুলি করে হত্যা করেন। ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে তিনিও আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।
অন্যদিকে, আহত মিরাজ হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিকেলে তিনি বন্ধুদের সঙ্গে এলাকায় ঘুরছিলেন। এ সময় বাবু এসে তার হাতে কোপ দেন। পরে ব্যথায় মাটিতে পড়ে গেলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বাবুর সঙ্গে তার কোনো শত্রুতা ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. খায়রুল ইসলাম জানান, তিনজনকে হাসপাতালে আনা হলে বাবু ওরফে আব্দুল্লাহকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। মিরাজকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং রুবেলকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। নিহত বাবুর বুকে ও হাতে ক্ষতের চিহ্ন ছিল। মিরাজের দুই হাতসহ শরীরের একাধিক স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে।
এ বিষয়ে নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর এম আল মামুন বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত এবং দুইজন আহত হয়েছেন। আহত মিরাজকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। নিহত বাবুর বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন