প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
‘নদীর তীর থেকে এক্সকাভেটর ব্যবহার করে মাটি কাটা হয়, যা ভাসমান পন্টুনে রাখা হয়। আবার নদীর তীরে মাটি তুলে স্তূপ করা হয়। রাতের অন্ধকারে অপেক্ষমাণ ড্রামট্রাকে সেই মাটি তোলা হয় এবং বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়, ক্রেতার ঠিকানায়।’
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার শীতলক্ষ্যা নদীর তীর থেকে মাটি লুটের এই চিত্র তুলে ধরছিলেন একজন স্থানীয় বাসিন্দা, যিনি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।
সম্প্রতি একটি বিকেলে শীতলক্ষ্যা নদীর কালীগঞ্জের মূলগাঁও ঘাটে গিয়ে এ প্রতিবেদক ওই বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় ঘাট থেকে খানিকটা দূরে মাঝনদীতে একটি ভাসমান পন্টুন দেখা যায়। সেখানে মাটিবাহী পন্টুনে মাটি রাখা ছিল এবং তার ওপর একটি এক্সকাভেটর অবস্থান করছিল।
স্থানীয়দের মতে, রাত হলেই পন্টুন মাঝনদী থেকে তীরে নিয়ে আসা হয়। এরপর সেখানে অপেক্ষমাণ ড্রামট্রাকে মাটি তুলে তা বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে ক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করা হয়। তারা জানান, নদীর তীর থেকে মাটি কেটে তীরেও রাখা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সংঘবদ্ধ চক্রটি বেশ কিছুদিন ধরে এভাবে নদীর মাটি লুট করলেও প্রশাসন কোনো কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
নদীতীরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাসিন্দারা জানান, কালীগঞ্জে রাত নামলেই শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে যন্ত্রের গর্জন শুরু হয়। অন্ধকারে লং বুম এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কাটা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মূলগাঁও মৌজার বিভিন্ন এলাকা থেকে মাটি কেটে প্রতিদিন রাত ৯টা থেকে ৩টা পর্যন্ত ট্রাকে করে মাটি সরবরাহ করা হয়। প্রতিরাতে ৩০ থেকে ৩৫টি ট্রাকে করে মাটি সরানো হয়।
মূলগাঁও নদীতীরের দোকানি চাঁদপুরের নাবিল মাহমুদ জানান, রাতের বেলায়ও চটপটি বিক্রি হয়। মাটিভর্তি পন্টুন ও ড্রামট্রাকের লোকজন রাতে চটপটি খান। তাই রাতেও তিনি দোকান চালান।
ড্রামট্রাকের শ্রমিক জামালপুরের আ. মোতালেব বলেন, ‘রাতের বেলায় ড্রামট্রাকে মাটি তোলার কাজ করি। এরপর যেখানে মাটি যায়, সেখানে মাটি খালাসের কাজও করি।’
এদিকে, প্রশাসনের অভিযান ও জরিমানা আদায়ের পরও শীতলক্ষ্যা নদী থেকে মাটি লুট থামছে না। সম্প্রতি মূলগাঁও গ্রামের শুক্কুর আলীর ছেলে দুলাল মিয়া (৩৮)-কে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে স্থানীয়রা প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করেই নদীতীর থেকে মাটি কাটা চলছে এবং মাঝে মাঝে ‘লোকদেখানো’ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
শীতলক্ষ্যার চরসিন্দুর সেতু থেকে রূপগঞ্জ পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার অংশে দায়িত্ব পালন করছেন ঘোড়াশাল নদী বন্দরের উপপরিচালক মো. রেজাউল করিম। কালের কণ্ঠকে তিনি জানান, ‘২০২১ সালের শেষের দিকে এই নদীবন্দর স্বতন্ত্রভাবে চালু হয়। সেই থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দখল থেকে ১০৮০টি স্থাপনা উচ্ছেদ, ২৫.৫৫ তীরভূমি উদ্ধার এবং তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এছাড়া গত পাঁচ বছরে চারবার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় নদী দখল ও দূষণের দায়ে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
মাটি লুট করে বিক্রির ঘটনা এখনও চলা প্রসঙ্গে উপপরিচালক বলেন, ‘গত ১১ অক্টোবর আমি এখানে যোগদান করেছি। সব খোঁজখবর নিচ্ছি। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মাটি চুরি বন্ধ হবে আশা করি।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম কামরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, সোমবার (২৭ অক্টোবর) কালীগঞ্জের মূলগাঁও এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর তীরের জমি থেকে মাটি কেটে নেওয়ার ঘটনায় মূলগাঁও গ্রামের শুক্কুর আলীর ছেলে দুলাল মিয়া (৩৮) কে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন