প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আজ (বৃহস্পতিবার) মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে। এরপর থেকেই নদী ও সাগরে ইলিশ শিকারের জন্য জেলেরা নামবেন। এ কারণে তারা শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীর তীরবর্তী পানপট্টি ঘাটসংলগ্ন জেলেপল্লিতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির সামনে ও রাস্তার পাশে খোলা জায়গায় বসে জাল মেরামত করছেন জেলেরা। কেউ পুরোনো জাল ঠিক করছেন, আবার কেউ মাছ ধরার ট্রলার প্রস্তুত করছেন। অন্যরা নদী-সাগরে যাওয়ার জন্য জ্বালানি ও খাবার সংগ্রহ করছেন।
তবে এই প্রস্তুতির আড়ালে রয়েছে অভাব-অনটন ও অনিশ্চয়তার গল্প। পানপট্টি জেলেপল্লির জেলে জয়নাল বলেন, "২২ দিন অবরোধ থাকার কারণে ঘরে ঠিকমতো রান্না হয়নি। সরকারিভাবে চাল আসে, তাও পাইনি। অবরোধ আসলে মনে হয়, আমাগো গরিবের ওপরেই আসে। ভয়ে নদীতে নামি না, যদি প্রশাসনে একমাত্র সম্বল জালটুকু নিয়ে যায়। তবে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় এখন মাছ ধরতে সব প্রস্তুতি শেষ করছি।"
একই ঘাটের নারী জেলে আকলিমা জানান, তিনি এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তেঁতুলিয়া ও আগুনমুখা নদীতে মাছ ধরেন। নিষেধাজ্ঞার কারণে সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাতে হয়েছে তাকে। তিনি বলেন, "সরকারি সহায়তার চাল দিয়ে সংসার চলে না। তার ওপর নদীতে আগের মতো মাছও পাওয়া যায় না।"
দীর্ঘ সময় মাছ ধরতে না পারায় অনেক জেলে পরিবারকে ঋণের কিস্তি, সংসারের খরচ এবং নৌকা ও জালের দেনা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারি খাদ্যসহায়তা বরাদ্দ থাকলেও অনেকে চাল পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। তবে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার ফলে মাছ ধরার সুযোগ তৈরি হওয়ায় তাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।
এদিকে মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর আগামী ১ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে জাটকা আহরণে আট মাসের নিষেধাজ্ঞা। এই নিষেধাজ্ঞা আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে। এ সময় ১০ ইঞ্চি বা ২৫ সেন্টিমিটারের কম দৈর্ঘ্যের ইলিশ ধরা, পরিবহন, ক্রয়-বিক্রয় ও মজুদ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আইন অমান্য করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
গলাচিপা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন জানান, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে ৪৫টি অভিযান ও চারটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় ইলিশ ও জাল জব্দ, মামলা, কারাদণ্ড এবং জরিমানা করা হয়। অভিযান পরিচালনার সময় কয়েকটি স্থানে জেলেরা মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তাদের ওপর হামলার চেষ্টা করেন। এরপরও অভিযান সফল করতে কাজ করেছেন তারা।
পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, জেলার আটটি উপজেলায় নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে অভিযান অব্যাহত ছিল। কোথাও কোথাও কর্মকর্তাদের ওপর হামলার চেষ্টার ঘটনা ঘটলেও সফলভাবে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন