প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পার্বত্য চট্টগ্রামের সব সশস্ত্র সংগঠন নিষিদ্ধ করা, সাজেকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পাহাড়ে অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনার দাবি জানায় পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি)।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে ঢাকা মহানগর শাখার পক্ষ থেকে এসব দাবি উত্থাপন করা হয়।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যকলাপের কারণে সাধারণ পাহাড়ি-বাঙালি বাসিন্দা ও পর্যটকেরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাঁরা উল্লেখ করেন, সম্প্রতি সাজেকে হরতাল পালনের ফলে পর্যটকদের ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে এবং পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। বক্তারা সরকারের কাছে পাহাড়ের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
সমাবেশে বক্তারা পার্বত্য অঞ্চলে সেনা ও যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান পরিচালনা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সদস্যদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। তাঁরা পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করে সাজেকে ভ্রমণের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারেরও আহ্বান জানান। বক্তাদের মতে, নিরাপত্তার অভাবে যদি পর্যটন কার্যক্রম ব্যাহত হয়, তবে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি নিয়েও বক্তারা সমালোচনা করেন। তাঁদের অভিযোগ, চুক্তির পরও পাহাড়ে অস্ত্রধারী গোষ্ঠীর কার্যকলাপ বন্ধ হয়নি এবং বিভিন্ন পরিষদ ও প্রশাসনিক কাঠামোয় একক আধিপত্যের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাঁরা চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়ে পার্বত্য অঞ্চলের সব জনগোষ্ঠীর সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করার মাধ্যমে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য সমাবেশে তুলে ধরা হয়নি।
পিসিসিপি ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি রাসেল মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা কর্নেল হাসিনুর রহমান। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের (পিসিএনপি) কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও স্থায়ী কমিটির সদস্য শেখ আহমেদ রাজু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিসিসিপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শাহাদাৎ ফরাজী শাকিব, সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন কায়েশ, স্টুডেন্ট ফর সোভারেন্টির আহ্বায়ক জিয়াউল হক, জনজোট বিপ্লবী মঞ্চের মুখপাত্র মুজাম্মেল মিয়াজী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ইউনাইটেড ইয়ং ফোর্সের আহ্বায়ক মো. শাকিল মিয়া, শিক্ষার্থী সৌরভ ইসলাম, স্বাধীনতা সুরক্ষা মঞ্চের সদস্যসচিব সামসুদ্দিন এবং পিসিসিপি ঢাকা মহানগর শাখার প্রচার সম্পাদক মেহেদী হাসান জাকিরসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।
সমাবেশ থেকে তিন দফা দাবি উত্থাপন করেন রাসেল মাহমুদ। দাবিগুলো হলো—পার্বত্য চট্টগ্রামের সব অবৈধ ও সশস্ত্র সংগঠন নিষিদ্ধ করা, সাজেকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা এবং পাহাড়ে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা।
সমাবেশের আয়োজকেরা জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা ও পর্যটনশিল্পের বিকাশে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। এ বিষয়ে সরকার, প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন