প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অপরাধ প্রতিরোধের জন্য ৫০টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, এবং পর্যায়ক্রমে নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
একাধিক সংঘর্ষ, স্থানীয় বিরোধ, সড়ক ও রেলপথ অবরোধ এবং সম্প্রতি সাবেক কাউন্সিলর আল-আমিন হত্যাকাণ্ডের কারণে কিশোরগঞ্জের ভৈরবের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী এবং কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. শরীফুল আলম। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধীদের শনাক্ত করতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ৫০টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। শহরের অন্যান্য এলাকা পর্যায়ক্রমে ক্যামেরার আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে ভৈরব বাজার শহর পুলিশ ফাঁড়ি চত্বরে সিসি ক্যামেরা স্থাপন কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
ভৈরব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভৈরব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আলহাজ্ব মো. জাহিদুল হক জাবেদ।
অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম মামুনুর রশীদ, ভৈরব সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভৈরবে তুচ্ছ ঘটনা ও স্থানীয় বিরোধের কারণে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনার পর সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে সাধারণ মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। ব্যক্তিগত কিংবা গোষ্ঠীগত বিরোধের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ করে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সম্প্রতি বাজারের নামকরণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, বাসস্ট্যান্ডে ভাড়া নিয়ে বিরোধ এবং ভৈরব রেলস্টেশনে খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি। এসব ঘটনার মধ্যে সর্বশেষ সাবেক কাউন্সিলর আল-আমিন হত্যাকাণ্ড ভৈরবের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, ভৈরবের মানুষ শান্তিতে ও নিরাপদে থাকতে চান। গুটিকয়েক অপরাধীর কারণে পুরো এলাকার মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হবে, তা মেনে নেওয়া যায় না। অপরাধী যে-ই হোক, এমনকি নিজ দলের সদস্য হলেও, প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।
৫০ ক্যামেরায় নজরদারি
অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোকে নজরদারির আওতায় আনতে ইতোমধ্যে ৫০টি উন্নতমানের সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাজার ও পয়েন্টে নজরদারি করা হবে। শহরের আরও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পর্যায়ক্রমে ক্যামেরার আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব নয়। অপরাধ প্রতিরোধে সাধারণ নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে। অন্যায় ও অপরাধের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।
মাদক, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, অপরাধীর পরিচয় নয়, অপরাধই বিবেচনায় নিতে হবে।
উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন নিরাপদ পরিবেশ
ভৈরব-কুলিয়ারচর এলাকায় আগামী দিনে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম নেওয়ার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই উন্নয়নের পাশাপাশি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
অনুষ্ঠান শেষে অসহায় ও প্রয়োজনীয় ব্যক্তিদের মধ্যে হুইলচেয়ার, সেলাই মেশিন, স্কুল ব্যাগ ও স্প্রে মেশিনসহ বিভিন্ন সহায়তা সামগ্রী বিতরণ করেন প্রতিমন্ত্রী। পরে এসএসসি ও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় সাফল্য অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি।
শুধু ক্যামেরা স্থাপন করলেই হবে না, কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সিসি ক্যামেরা স্থাপন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অপরাধ সংঘটনের পর ঘটনাস্থলের ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করাও সহজ হতে পারে। তবে ক্যামেরা স্থাপন করলেই এর সুফল পাওয়া যাবে না।
ক্যামেরাগুলো সার্বক্ষণিক সচল রাখা, নিয়মিত মনিটরিং, পর্যাপ্ত সময় ফুটেজ সংরক্ষণ এবং অপরাধের পর দ্রুত তদন্তে এসব ফুটেজ ব্যবহারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে ক্যামেরার আওতার বাইরে থাকা অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোও পর্যায়ক্রমে নজরদারির মধ্যে আনা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সিসি ক্যামেরার পাশাপাশি পুলিশের টহল ও তৎপরতা বাড়ানো, মাদক ও ছিনতাই দমন এবং সংঘর্ষের ঘটনায় দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে ভৈরবের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। নিরাপদ ভৈরব গড়তে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, প্রশাসনিক তৎপরতা এবং নাগরিক সচেতনতার সমন্বিত উদ্যোগই এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন