প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা কাজে লাগানোর জন্য জাপান উদ্যোগী হয়েছে। টোকিওর মারুবেনি করপোরেশন, যা দেশটির অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, আগামী ১০ বছরে ব্যবসার পরিধি বর্তমানের তুলনায় ১০ গুণ বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসায়ুকি ওমোতো, উত্তর আমেরিকার পরবর্তী বড় বাজার হিসেবে ভারতের সম্ভাবনার দিকে দৃষ্টি দিয়েছেন। তিনি অক্টোবরের মাঝামাঝি নিক্কেইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, "ভারতই একমাত্র দেশ, যেখানে বাজার দুই অঙ্কের হারে বাড়ছে।" তার মতে, ভবিষ্যতেও এই প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভারতের ১৪০ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে ভোগ্যপণ্য ও উৎপাদন খাতের সম্প্রসারণ বৈশ্বিক অর্থনীতির নতুন প্রবৃদ্ধির ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে। ওমোতো উল্লেখ করেন, "ভারতের মধ্যবিত্ত শ্রেণির জনসংখ্যা প্রায় ৪০ কোটি, যা যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার কাছাকাছি।" তিনি আরও বলেন, "বাকি ১০০ কোটি মানুষের আয়ও বাড়তে পারে, যা ভবিষ্যতে বিশাল ভোক্তাবাজার তৈরি করবে।"
বর্তমানে মারুবেনির সবচেয়ে বড় মুনাফার উৎস যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিষ্ঠানটি সফল হওয়া ব্যবসায়িক মডেল ভারতেও প্রয়োগ করতে চায়। এ জন্য দ্রুত পর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনা সম্পদ বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন ওমোতো। তিনি বলেন, "ভারত এখন মারুবেনির প্রবৃদ্ধির পরবর্তী প্রধান লক্ষ্য।"
ভারতে ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য প্রতিষ্ঠানটি তিনটি কৌশল নির্ধারণ করেছে। সেগুলো হলো- সরকারের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উৎপাদন উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হওয়া, ক্রমবর্ধমান ভোক্তা ব্যয়ের সুযোগ কাজে লাগানো এবং ভারতকে কেন্দ্র করে অন্যান্য উদীয়মান বাজারে ব্যবসা সম্প্রসারণ করা।
এসব লক্ষ্য সামনে রেখে, গত মার্চে মারুবেনি কনজ্যুমার প্ল্যাটফর্ম ইন্ডিয়া প্রতিষ্ঠা করেছে। নতুন প্রতিষ্ঠানটি খাদ্য ও পানীয়, রেস্তোরাঁ এবং ভোগ্যপণ্য খাতের ব্যবসায় বিনিয়োগ ও সেগুলোর প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। স্থানীয় বাজার সম্পর্কে অভিজ্ঞতা ও যোগাযোগ কাজে লাগাতে এর শীর্ষ পদগুলোতে ভারতীয়দের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, আবাসন খাতেও ব্যবসা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে মারুবেনি। ২০২০ সালে মুম্বাইয়ের আবাসন বাজারে প্রবেশের পর পুনেসহ কয়েকটি শহরে কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে। ২০২৬ সালে ভারতে পঞ্চম আবাসন প্রকল্পে যুক্ত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ভবিষ্যতে সুযোগ তৈরি হলে হায়দরাবাদ, দিল্লি ও বেঙ্গালুরুতেও বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।
শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধিও প্রতিষ্ঠানটির নজরে রয়েছে। মারুবেনি ভারতের মোট তামা আমদানির প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ করে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডাটা সেন্টার নির্মাণের প্রসারে দেশটিতে তামারের চাহিদা আরো বাড়তে পারে বলে মনে করছেন ওমোতো।
জাপানের সিটিজেন মেশিনারি ও ব্রাদার ইন্ডাস্ট্রিজের যন্ত্রপাতি ভারতে বিক্রি ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজও করে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে, ভারতের ব্যবসায়িক পরিবেশে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো, দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তিতে সালিসি ব্যবস্থা কার্যকর করা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং উৎপাদন খাতের বিকাশের মতো চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন ওমোতো। তার মতে, সেবা খাত বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের উৎস হয়ে উঠলেও উৎপাদনশিল্পের প্রসারে ভারতের নীতিগত উদ্যোগ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
ভারতের সম্ভাবনা তুলে ধরে ওমোতো বলেন, "একবিংশ শতাব্দী ভারতের শতাব্দী।" বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে ভারতই এখন সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনাময় জায়গা বলে তিনি মনে করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন