প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর জন্য দ্রুত নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি জানানো হয়েছে এশিয়া ফ্লোর ওয়েজ অ্যালায়েন্স (এএফডব্লিউএ) বাংলাদেশ কমিটির পক্ষ থেকে।
১১ আগস্ট মঙ্গলবার, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত একটি সমাবেশে তারা এই দাবি রেখেছেন।
সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে, ১২ হাজার ৫০০ টাকা নিম্নতম মজুরি দিয়ে একজন পোশাক শ্রমিকের নিজের ও পরিবারের ন্যূনতম প্রয়োজন পূরণ করা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে।
এএফডব্লিউএ বাংলাদেশ কমিটির আহ্বায়ক কাজী রুহুল আমীনের সভাপতিত্বে এবং সম্মিলিত শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুল হাসান নয়নের সঞ্চালনায় এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এতে নেতারা উল্লেখ করেছেন, দেশের রপ্তানি আয়, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও কর্মসংস্থানে তৈরি পোশাক শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে এই শিল্পের অবদান উল্লেখযোগ্য।
কিন্তু লাখ লাখ শ্রমিকের সৃষ্ট শ্রমে শিল্পে বিপুল সম্পদ সৃষ্টি হলেও শ্রমিকরা তার ন্যায্য অংশ পাচ্ছেন না।
শ্রমিকদের নেতারা বলেন, খাদ্য, বাসাভাড়া, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, পরিবহন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও ওষুধসহ প্রায় সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। কিন্তু সে অনুযায়ী শ্রমিকদের আয় বৃদ্ধি পায়নি। ফলে সংসারের খরচ মেটাতে অনেক শ্রমিককেই অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হচ্ছে এবং একাধিক শ্রমিক ঋণগ্রস্ত হচ্ছে।
সরকারি কর্মচারীদের প্রস্তাবিত সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা বেতনের সঙ্গে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ১২ হাজার ৫০০ টাকার তুলনা করে নেতারা বলেছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় সরকারি কর্মচারীদের বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হলে পোশাক শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
বর্তমান আগস্ট মাসের মধ্যেই গার্মেন্টস খাতে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সমাবেশের পরে গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য দ্রুত মজুরি বোর্ড গঠনের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ রয়েছে মজুরি বোর্ডে স্বাধীন শ্রমিক প্রতিনিধিত্ব, জীবনযাত্রার প্রকৃত ব্যয় বিবেচনায় মজুরি নির্ধারণ, চাকরি ও কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, মাতৃত্বকালীন সুবিধা, সামাজিক সুরক্ষা এবং ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন