প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চুপচাপ থাকা, সবার কথা মেনে চলা এবং নিজের মতামত প্রকাশ না করা—সমাজে এমন মেয়েদের অনেক সময় ‘লক্ষ্মী মেয়ে’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। অন্যদিকে, যদি কেউ নিজের মত প্রকাশ করে কিংবা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে, তখন সেই মেয়েটিকে ‘অলক্ষ্মী’ তকমা দেওয়া হয়। সমাজে প্রচলিত এই ধারণা নিয়ে টালিউড অভিনেত্রী ইশা সাহা নিজের চিন্তাভাবনা প্রকাশ করেছেন।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে লক্ষ্মীপূজা, শৈশবের স্মৃতি এবং সমাজে নারীর অবস্থান সম্পর্কে তার উপলব্ধির কথা তুলে ধরেছেন ইশা।
ছোটবেলা থেকেই ‘লক্ষ্মী মেয়ে’ শব্দটির সঙ্গে পরিচিত ছিলেন এই অভিনেত্রী। সবার কথা শুনে চলা এবং বাধ্য মেয়ের মতো আচরণ করার মধ্যেই তিনি ভালো মেয়ের পরিচয় খুঁজতেন। দুর্গাপূজার পর লক্ষ্মীপূজা কেন হয়, সে বিষয়ে একসময় মাকেও প্রশ্ন করেছিলেন। বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লক্ষ্মীদেবীর ধর্মীয় ও সামাজিক গুরুত্ব সম্পর্কে তার ধারণা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ইশা জানান, তাদের বাড়িতে ব্যবসা থাকায় লক্ষ্মী ও গণেশের একসঙ্গে পূজা করা হতো। কোজাগরী লক্ষ্মীপূজায় নিজ হাতে বাড়িতে প্রদীপ জ্বালানো এবং আলপনা দেওয়ার স্মৃতি আজও তার কাছে বিশেষ। নিজের উপার্জন শুরু করার পর অর্থনৈতিক জীবনে লক্ষ্মীপূজার তাৎপর্য তিনি আরো গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন।
তবে লক্ষ্মী মেয়ে হওয়ার প্রচলিত ধারণা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিনেত্রী। তার মতে, সমাজে শান্ত ও চুপচাপ থাকা মেয়েদের ভালো হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু কেউ যদি স্বাধীনভাবে নিজের মত প্রকাশ করে, তাহলে তাকে ‘অলক্ষ্মী’ বলা হতে পারে। অথচ নিজের অবস্থান স্পষ্ট করা বা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা কাউকে খারাপ মানুষ বানায় না।
ইশার মতে, যতক্ষণ একটি মেয়ে অন্যের পছন্দ অনুযায়ী চলে এবং নীরবে সবকিছু সহ্য করে, ততক্ষণ তাকে ভালো বলা হয়। কিন্তু নিজের মত প্রকাশ করলে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যেতে পারে। এই মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
অভিনেত্রীর কাছে লক্ষ্মী হওয়ার অর্থ শুধুমাত্র অর্থ-সম্পদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার দৃষ্টিতে, যারা ঘর ও বাইরের দায়িত্ব সমানভাবে সামলান এবং নিজের ভালো থাকার পাশাপাশি আশপাশের মানুষকেও ভালো রাখেন, তারাই প্রকৃত অর্থে লক্ষ্মী। সবার ঘরে লক্ষ্মীর আশীর্বাদ থাকুক, দারিদ্র্য দূর হোক এবং মানুষের জীবনে নতুন আলো আসুক—এমন প্রত্যাশাও জানিয়েছেন ইশা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন