প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে শর্তসাপেক্ষ রাজকীয় ক্ষমার আওতায় গৃহবন্দি থাকার অনুমতি দেওয়ার ফলে ৪৫০ কোটি ডলারের ওয়ানএমডিবি কেলেঙ্কারি নিয়ে মালয়েশিয়ায় নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
সমালোচকরা দাবি করছেন, নাজিবের কারাগারে থাকার প্রয়োজন রয়েছে। অন্যদিকে, তার সমর্থকেরা সাবেক এই নেতার প্রতি সমর্থন জানিয়ে গৃহবন্দিত্বে স্থানান্তরের জন্য জরিমানা পরিশোধে সহায়তার জন্য তহবিল সংগ্রহের প্রচারণা শুরু করেছেন।
২০২২ সালে রাষ্ট্রীয় সম্পদ তহবিল ওয়ানএমডিবি থেকে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ৭৩ বছর বয়সী নাজিবকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওয়ানএমডিবির পূর্ণ নাম ১মালয়েশিয়া ডেভেলপমেন্ট বেরহাদ।
কুয়ালালামপুর থেকে এএফপি জানায়, শুক্রবার রাজা সুলতান ইব্রাহিম নাজিবের ছয় বছরের কারাদণ্ডের বাকি সময় গৃহবন্দি অবস্থায় কাটানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। তবে, এর জন্য তাকে ৫ কোটি রিঙ্গিত (১ কোটি ২০ লাখ ডলার) জরিমানা দিতে হবে।
নাজিব ওয়ানএমডিবি-সংক্রান্ত আরেকটি মামলায় দেওয়া ১৫ বছরের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করছেন।
অভিযোগ রয়েছে যে, ২০১০-এর দশকে রাষ্ট্রীয় ওই তহবিল থেকে প্রায় ৪৫০ কোটি ডলার আত্মসাৎ করা হয়েছে। এই ঘটনায় মালয়েশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে তদন্ত শুরু হয়েছে।
এই কেলেঙ্কারি ইউনাইটেড মালয় ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (ইউএমএনও)-এর পতনে ভূমিকা রেখেছে, যা ২০১৮ সালে দলটির ছয় দশকের ক্ষমতার অবসান ঘটায়।
তবে, নাজিব এখনও তার রাজনৈতিক সমর্থকগোষ্ঠী এবং ইউএমএনওর তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে জনপ্রিয়।
৪৯ বছর বয়সী উদ্যোক্তা জেমস চাও বলেন, "আরও কয়েকটি মামলা বিচারের অপেক্ষায় থাকা একজন দোষী সাব্যস্ত অপরাধীকে কীভাবে গৃহবন্দি থাকার সুযোগ দেওয়া যায়?"
তিনি এএফপিকে বলেন, "এটি সময় ও অর্থের অপচয় এবং আইনের প্রতি উপহাস।"
একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী ৫২ বছর বয়সী শ্যাম প্রিয়াহ বলেন, ক্ষমা প্রদানের ক্ষেত্রে রাজার "সাংবিধানিক বিশেষাধিকারকে" তিনি সম্মান করেন।
তবে, নাজিবের জরিমানা পরিশোধে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তিনি এএফপিকে বলেন, "একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ৫ কোটি রিঙ্গিতের জরিমানা পরিশোধে সাধারণ মালয়েশীয়দের ১০ রিঙ্গিত করে দিতে সংগঠিত হতে দেখে সমাজ হিসেবে আমাদের অগ্রাধিকার নিয়ে আমার মনে আরও বড় একটি প্রশ্ন তৈরি হয়।"
তিনি বলেন, "১০ রিঙ্গিত কোনো অসচ্ছল মানুষের এক বেলার খাবারের অর্থ হতে পারে।"
তবে, নাজিবের সমর্থকেরা রাজার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।
৬৮ বছর বয়সী সমর্থক রাদিয়া রশিদ এএফপিকে বলেন, "নাজিবকে ভালোবাসেন এমন সমর্থকেরা তিনি কবে গৃহবন্দিত্বের সুযোগ পাবেন, সেই মুহূর্তটির অপেক্ষায় ছিলেন।"
৪৩ বছর বয়সী সমর্থক সুজ্জালিনা আনুরা বলেন, "আমরা নাজিব রাজাককে মিস করি। তাকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব না হলেও অন্তত তিনি তাঁর পরিবার, নাতি-নাতনি ও সন্তানদের সঙ্গে বাড়িতে থাকতে পারবেন।"
স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, প্রচারণা শুরুর পর সোমবার পর্যন্ত অনুদানের পরিমাণ ১০ লাখ রিঙ্গিত ছাড়িয়ে গেছে। তবে কিছু সমালোচক প্রতিবাদ হিসেবে মাত্র এক সেন (০.০১ রিঙ্গিত) করে অনুদান দিয়েছেন।
২০২৮ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এর আগে সাবেক নেতার প্রতি আনুগত্য বজায় রাখা এবং কেলেঙ্কারির প্রভাব কাটিয়ে ওঠার প্রচেষ্টার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষায় ইউএমএনওর চলমান সংকটও এ ঘটনা সামনে এনেছে।
মালয়েশিয়ার নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মালয়েশীয় রাজনীতি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ব্রিজেট ওয়েলশ বলেন, ইউএমএনওর অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ দলটিকে "কঠিন অবস্থানে" ফেলেছে।
তিনি বলেন, একদিকে দলটিকে নাজিবের প্রতি সমর্থন জানাতে এবং ঐতিহ্যগত সমর্থকদের আশ্বস্ত করতে হবে। অন্যদিকে দুর্নীতির বিষয়ে তুলনামূলকভাবে কঠোর অবস্থান নেওয়া তরুণ ভোটারদের কাছেও দলটিকে গ্রহণযোগ্য হতে হবে।
তিনি এএফপিকে বলেন, "গৃহবন্দিত্ব দলের ঐক্য জোরদারে সহায়তা করছে। তবে এর ফলে দলটির জনসম্পৃক্ততার সুযোগ কমছে, কারণ এতে দলটির বহন করে চলা পুরোনো রাজনৈতিক বোঝা আবারও সামনে আসছে।"
তিনি বলেন, "কিছু ঐতিহ্যগত সমর্থকের কাছ থেকে" অর্থ সংগ্রহ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ নাজিবের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে এ প্রচারণা তরুণ ভোটার এবং রাজনৈতিকভাবে মধ্যপন্থী ভোটারদের দূরে ঠেলে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
ওয়েলশ বলেন, "তরুণ ভোটার ও মধ্যপন্থীদের কাছে এটি বিচ্ছিন্নতামূলক। তাঁদের কাছে মনে হচ্ছে, দলটি নিজেদের ভুল স্বীকার করতে প্রস্তুত নয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন