প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
উপমহাদেশের খ্যাতিমান চলচ্চিত্র অভিনেতা, সাহিত্যিক এবং কেশবপুরের গর্বিত সন্তান ধীরাজ ভট্টাচার্যের ১২১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে যশোরের কেশবপুরে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বক্তারা তাঁর জীবন, কর্ম, অভিনয়জীবন এবং টেকনাফের মাথিনের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রেমকাহিনি নিয়ে আলোচনা করেন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) কেশবপুরের ঐতিহ্যবাহী পাঁজিয়া গ্রামে অবস্থিত যশোরের প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পাঁজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘ কেশবপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বসুন্ধরা শুভসংঘ কেশবপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ অসীম কুমার ঘোষ। সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন পাঁজিয়া সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংসদের সহসম্পাদক মানব মণ্ডল। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধীরাজ ভট্টাচার্যের জীবনীগ্রন্থের লেখক সহকারী অধ্যাপক তাপস মজুমদার।
ধীরাজ ভট্টাচার্যের জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা করেন পাঁজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উজ্জ্বল ব্যানার্জী, পাঁজিয়া সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংসদের সভাপতি নজরুল ইসলাম খান, বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক সুব্রত চক্রবর্তী এবং অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী বিদিশা ব্যানার্জী বিন্দু।
এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ কেশবপুর উপজেলা শাখার নির্বাহী কমিটির সদস্য নুরুল ইসলাম খান, বসুন্ধরা শুভসংঘ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য স্বস্তিকা ঘোষ, সাংবাদিক রায়হান রনিসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
বক্তারা উল্লেখ করেন, ধীরাজ ভট্টাচার্য ১৯০৫ সালের ৫ নভেম্বর কেশবপুরের পাঁজিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পাঁজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষাজীবনের সূচনা করেন। দেশভাগের আগে তিনি পরিবারের সঙ্গে কলকাতায় চলে যান। কর্মজীবনের শুরুতে পুলিশ বিভাগে যোগদান করেন। পরে চলচ্চিত্রে অভিনয় এবং সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে তিনি পরিচিতি লাভ করেন। অভিনয়ে তিনি নায়ক ও খলনায়ক—দুই চরিত্রেই দর্শকের প্রশংসা অর্জন করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে 'যখন পুলিশ ছিলাম' ও 'যখন নায়ক ছিলাম'।
বক্তারা ধীরাজ ভট্টাচার্য ও টেকনাফের মাথিনের প্রেমকাহিনির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। পুলিশে চাকরিরত অবস্থায় বদলি হয়ে তিনি চট্টগ্রামে যান। পরে দায়িত্ব পান টেকনাফে। সেখানে মগ রাজার কন্যা মাথিনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাথিনকে বিয়ে না করে তিনি কলকাতায় ফিরে যান। কথিত আছে, প্রিয় মানুষকে হারিয়ে মাথিন টেকনাফ থানার একটি কূপের পাশে অনশন শুরু করেন এবং একপর্যায়ে মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তী সময়ে কূপটি 'মাথিনের কূপ' নামে পরিচিতি লাভ করে। এই প্রেমকাহিনি বাংলা সাহিত্যের লাইলী-মজনু ও শিরি-ফরহাদের প্রেমকাহিনির সঙ্গে তুলনা করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, ধীরাজ ভট্টাচার্য শুধুমাত্র একজন চলচ্চিত্র অভিনেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন সাহিত্যিক এবং বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী মানুষ। পাঁজিয়ার মতো একটি গ্রাম থেকে উঠে এসে উপমহাদেশের চলচ্চিত্রজগতে নিজের অবস্থান তৈরি করেছিলেন তিনি। তাঁর জন্মভূমিতে এমন আয়োজন নতুন প্রজন্মের কাছে এই গুণী ব্যক্তিত্বের জীবন ও অবদান তুলে ধরতে সহায়ক হবে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এই কৃতী প্রাক্তন শিক্ষার্থীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি উপভোগ করে। আলোচনা সভা শেষে পরিবেশিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন