প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ২ জুলাই ২০২৬ : বসনিয়া-হার্জেগোভিনাকে ২-০ গোলে পরাজিত করে বিশ্বকাপের শেষ ষোল নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ম্যাচের শুরুতেই ফোলারিন বালোগানের গোলে এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে তিনি লাল কার্ডের কারণে মাঠ ছাড়লে বাকি সময়টা যুক্তরাষ্ট্রকে একজন কম নিয়েই খেলতে হয়েছে।
আগামী সোমবার সিটলে শেষ ষোলর ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম। এটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মত সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের জন্য শেষ ষোলতে খেলার যোগ্যতা অর্জনের ঘটনা।
বালোগানের প্রথমার্ধের গোলটি ম্যাচের শেষ মুহূর্তে আসে। কিন্তু ৬৪ মিনিটে বালোগান বসনিয়ার টারিক মুহারমোভিচকে বাজেভাবে ট্যাকেল করায় ভিএআর রিভিউর মাধ্যমে লাল কার্ড দেওয়া হয়। ১০ জন নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা যুক্তরাষ্ট্র ৮২ মিনিটে মালিক টিলমানের ফ্রি-কিকের গোলে জয় নিশ্চিত করে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ বলেন, "ছেলেরা অসাধারণ লড়াই করেছে। লাল কার্ড পাওয়ায় ম্যাচটা আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোয়নি, কিন্তু এটিই প্রমাণ করে আমরা কতটা ভালো দল।"
যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থকরা উৎসবমুখর পরিবেশে সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া স্টেডিয়ামে ভিড় জমান। ক্যালিফোর্নিয়ার আকাশে ম্যাচ শুরুর আগে ঐতিহ্যবাহী যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন তাদের আত্মবিশ্বাস ও উচ্ছ্বাসের প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়।
কিক-অফের পর থেকেই বসনিয়ার কৌশল স্পষ্ট ছিল, তারা দীর্ঘ পাসে আক্রমণ শুরু করে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণভাগ দ্রুতই মাঝমাঠের কাছাকাছি অবস্থান নেয়।
তবু ম্যাচের প্রথম দিকে বসনিয়াই সেরা সুযোগগুলো পায়। ৪০ বছর বয়সী অধিনায়ক এডিন জেকো গোলরক্ষকের লম্বা পাস নিয়ন্ত্রণে এনে এরমেদিন ডেমিরোভিচকে বাড়িয়ে দেন। কিন্তু তার শট সরাসরি গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিজের কাছে এসে পড়ে।
দ্রুত চাপ বাড়াতে থাকে যুক্তরাষ্ট্র। আমার ডেডিচের বেপরোয়া ট্যাকলে ফোলারিন বালোগান পেনাল্টির জোরালো আবেদন জানালেও রেফারি তা নাকচ করে দেন। কিছুক্ষণ পর বালোগান গোল করতে গেলেও অফসাইডের কারণে সেই গোলটি বাতিল হয়।
দর্শকদের উৎকণ্ঠা কাটে ৪৫তম মিনিটে। যুক্তরাষ্ট্রের অধিনায়ক টিম রিম বসনিয়ার একটি গোলকিক প্রতিহত করে দ্রুত বল বাড়িয়ে দেন মালিক টিলম্যানকে। টিলম্যানের থ্রু পাস প্রতিপক্ষের গায়ে লেগে বালোগানের সামনে প্রবেশ করলে তিনি সহজেই বল জালে পাঠান।
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে বালোগানের আরেকটি শট ক্রসবারে গিয়ে লাগে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ইনজুরিতে মাঠ ছাড়েন জেকো। এরপর বসনিয়ার কোচ সের্গেই বারবারেজ একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন আনেন।
৬৪ মিনিটে ভিএআরের পর্যালোচনার পর মুহারেমোভিচের পায়ে পা দেওয়ার কারণে বালোগানকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। অনেকের কাছেই এই সিদ্ধান্ত কঠোর মনে হয়েছিল।
হাইড্রেশন বিরতির সময় যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মরিসিও পোচেত্তিনো মাঠে খেলোয়াড়দের একত্র করে ১০ জনে পরিণত হওয়া দলের জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পণা করেন।
তিনি পরে জানান, "আমি তাদের বলেছিলাম, আমাদের দেখাতে হবে আমরা একটি দল, আমরা ঐক্যবদ্ধ।"
তিনি আরও বলেন, "এটাই ছিল সবার কাছে এবং নিজেদের কাছে প্রমাণ করার মুহূর্ত। আমরা নিজেদের একটি 'পরিবার' বলি, সেটা এখন আর শুধু মুখের কথা নয়।"
পুলিসিচের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়।
৮২তম মিনিটে যুক্তরাষ্ট্র বসনিয়ার বক্সের ঠিক বাইরে ফ্রি-কিক পায়। টিলম্যানের দারুণ বাঁকানো শট ডিফেন্সিভ দেয়ালকে পিছনে ফেলে গোলরক্ষক নিকোলা ভাসিলজের আঙুল ছুঁয়ে জালে প্রবেশ করে।
অতিরিক্ত সময়ের স্নায়ুচাপের ১০ মিনিট সফলভাবে সামলে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। বদলি খেলোয়াড় এরমিন মাহমিচের একটি শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায়।
অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র ইতিহাস গড়া জয় নিশ্চিত করে এবং নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপ অভিযান টিকিয়ে রাখে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন