প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কৃষ্ণসাগরে রুশ ড্রোনের হামলার ফলে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে আগুন লেগে সেটি ডুবে গেছে। এই ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন। রোমানিয়ার কর্তৃপক্ষ জানায়, জাহাজটির ১১ জন ক্রুকে উদ্ধার করা হয়েছে। খবরটি এনডিটিভি থেকে জানা যায়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে উল্লেখ করেন, নিরপেক্ষ জলসীমায় তুরস্কের মালিকানাধীন একটি বেসামরিক জাহাজে দুটি রুশ ড্রোনের দ্বারা ভয়াবহ হামলা চালানো হয়। উল্লেখ্য, জাহাজটি ভুট্টা বহন করছিল।
তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এই ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রোমানিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, স্থানীয় সময় সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে কোস্টগার্ডকে বিষয়টি জানানো হয়। জাহাজটি রোমানিয়ার একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলে অবস্থান করছিল। এটি তুলচা কাউন্টির স্ফানতুল জর্জ থেকে প্রায় ৩০ নটিক্যাল মাইল বা ৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণে ছিল।
আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে মন্ত্রণালয় কিছু জানায়নি। তবে রোমানিয়ার কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুরস্কের একটি শস্যবাহী জাহাজ কৃষ্ণসাগরের একটি তেল প্ল্যাটফর্মের দক্ষিণ-পূর্বে ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য নিশ্চিত করেনি।
রোমানিয়ার নৌ কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘রোয়াদ মাম্মাদভ’ নামের জাহাজটিতে আগুন লেগেছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট মেরিনট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, এটি সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের পতাকাবাহী একটি সাধারণ পণ্যবাহী জাহাজ। ইউক্রেনের ইজমাইল বন্দর থেকে জাহাজটির ইতালি যাওয়ার কথা ছিল।
রোমানিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, জাহাজটির ১১ জন ক্রুকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে দুজনের মরদেহও পাওয়া যায়। আহত কয়েকজনকে হেলিকপ্টারে করে জরুরি চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে।
জেলেনস্কি জানান, জাহাজটিতে আজারবাইজান ও ভারতের নাগরিকরা ছিলেন। জাহাজটির ক্যাপ্টেন নিহত হয়েছেন এবং আরও একজন ক্রুর ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, কৃষ্ণসাগরে উত্তেজনা কমানো ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউক্রেন বারবার সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের প্রস্তাব দিয়েছে। তৃতীয় কয়েকটি দেশও এ বিষয়ে প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু রাশিয়া স্বাভাবিকভাবে জাহাজ চলাচলের পরিবর্তে সন্ত্রাস ও বেসামরিক জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার পথ বেছে নিচ্ছে।
২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে কৃষ্ণসাগর গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ হিসেবে বাড়তি নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
এর আগে গত মাসে কৃষ্ণসাগরে নেপচুন ডিপ গ্যাস প্ল্যাটফর্মের কাছে বিস্ফোরক বহনকারী একটি নৌড্রোন শনাক্ত হওয়ার পর সেটি ধ্বংস করতে রোমানিয়া দুটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছিল। রোমানিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটির নৌবাহিনী কৃষ্ণসাগরে ভেসে থাকা নয়টি সমুদ্র মাইন ধ্বংস করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন