প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ (এনপিএল) কমানো এবং আর্থিক খাতে তারল্য পরিস্থিতির উন্নয়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিশেষ ‘এক্সিট পলিসি’ চালু করেছে। খেলাপি ঋণ আদায় ও সমন্বয়ের সুযোগ দেয়ার উদ্দেশ্যে এককালীন সমঝোতার মাধ্যমে এই নীতি চালু হলো।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্স কোম্পানি প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (এফসিআরপিডি) বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছে।
এই নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব ঋণগ্রহীতার ব্যবসা, শিল্প বা প্রকল্প বিভিন্ন কারণে তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তারা এই বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় বকেয়া দায় নিষ্পত্তির সুযোগ লাভ করবেন।
নীতিমালা অনুযায়ী, ঋণগ্রহীতা তার সম্পূর্ণ বকেয়া মূলধন এককালীন পরিশোধ করবে। তবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো মূলধনের কোনো অংশ মওকুফ করতে পারবে না। তবুও, ঋণগ্রহীতার প্রকৃত প্রয়োজন যাচাই করে সঞ্চিত সুদ মওকুফ করা যাবে।
প্রতিটি সুদ মওকুফের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগের মাধ্যমে পর্যালোচনা করতে হবে এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিপালন বিভাগের প্রধান (এইচআইসিসি) এর মতামতের ভিত্তিতে অনুমোদন দিতে হবে। বিশেষভাবে, তহবিলের ব্যয় (কস্ট অব ফান্ড) আদায়কালে শিথিলতা প্রদান করা যেতে পারে। এ সুবিধা ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত ‘মন্দ বা লোকসান’ শ্রেণিভুক্ত ঋণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্রে ৬ আগস্ট ২০২৪ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ সময়ের মধ্যে পুনঃতফসিল করা ঋণও এই সুবিধার আওতায় আসবে। তবে অর্থ আত্মসাৎ, জালিয়াতি, প্রতারণা বা অন্যান্য অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঋণ এই বিশেষ এক্সিট সুবিধার আওতায় অন্তর্ভুক্ত হবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংক এ ছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বল্পমেয়াদি কৃষিঋণ এবং কুটির, অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতের ঋণ নিষ্পত্তিতে অগ্রাধিকার দেয়ার নির্দেশনা প্রদান করেছে। ইতোমধ্যে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে যোগ্য ঋণগ্রহীতাদের চিঠি এবং অন্যান্য উপযুক্ত যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে এই বিশেষ সুবিধার বিষয়ে অবহিত করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন, ২০২৩-এর ৪১ ধারার আওতায় এই বিশেষ নীতিমালা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে এবং ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেশে কার্যরত সব ফাইন্যান্স কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন