প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রাম, ৪ নভেম্বর, ২০২৬ : চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস পাঁচটি কনটেইনারে পড়ে থাকা পচনশীল পণ্য নিলামে বিক্রির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কনটেইনারগুলোতে ৪৭ হাজার ৪৪০ কেজি তাজা আপেল ও ৭৮ হাজার ৩০০ কেজি তাজা আদা রয়েছে। মোট ১ লাখ ২৫ হাজার ৭৪০ কেজি বা প্রায় ১২৬ টন পণ্য নিলামে তোলা হবে। এসব পণ্যের সংরক্ষিত মূল্য প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বুধবার চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের নিলামের দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার নাজমুল হোসেন জানান, মঙ্গলবার এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ একটি ই-প্রকাশ্য নিলাম বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিলামে অংশগ্রহণের জন্য ৪ নভেম্বর সকাল ৯টা থেকে ৯ নভেম্বর দুপুর ২টা পর্যন্ত অনলাইনে দরপত্র দাখিল করা যাবে।
নিলাম বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, দুটি ৪০ ফুট কনটেইনারে ২৩ হাজার ৭২০ কেজি করে মোট ৪৭ হাজার ৪৪০ কেজি তাজা আপেল রয়েছে। প্রতিটি চালানের সংরক্ষিত মূল্য ৪৬ লাখ ৪১ হাজার ৬১৯ টাকা ২১ পয়সা। দুই চালানের মোট সংরক্ষিত মূল্য ৯২ লাখ ৮৩ হাজার ২৩৮ টাকা ৪২ পয়সা।
অন্যদিকে, তিনটি ৪০ ফুট কনটেইনারে তাজা আদা রয়েছে। এর মধ্যে একটি কনটেইনারে ২৪ হাজার ৩০০ কেজি এবং বাকি দুটি কনটেইনারে ২৭ হাজার কেজি করে মোট ৭৮ হাজার ৩০০ কেজি আদা রয়েছে। এসব আদার মোট সংরক্ষিত মূল্য ৮৭ লাখ ৭ হাজার ৮৬১ টাকা ৫৫ পয়সা। সব মিলিয়ে পাঁচটি পণ্যচালানের সংরক্ষিত মূল্য ১ কোটি ৭৯ লাখ ৯১ হাজার ৯৯ টাকা ৯৭ পয়সা দাঁড়িয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগ্রহী ক্রেতারা আগামী ৫ নভেম্বর অফিস চলাকালীন সময়ে সরেজমিনে পণ্যগুলো পরিদর্শন করতে পারবেন। পণ্য যেভাবে রয়েছে, সেই অবস্থায় বিক্রি করা হবে। তাই দরপত্র দাখিলের আগে পণ্যের প্রকৃতি, পরিমাণ, গুণগত মান ও বর্তমান অবস্থা যাচাই করার জন্য কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পরামর্শ দিয়েছে।
নিলামে অংশগ্রহণের জন্য নির্ধারিত সংরক্ষিত মূল্যের ৫ শতাংশ জামানত হিসেবে যেকোনো তফসিলি ব্যাংক থেকে কমিশনার, কাস্টম হাউস, চট্টগ্রাম বরাবর পে-অর্ডার, ব্যাংক ড্রাফট অথবা ডিমান্ড ড্রাফট জমা দিতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও দাখিল করতে হবে।
নিলামের দরপত্র আগামী ৯ নভেম্বর দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে কাস্টম হাউসের নিলাম শাখায় উন্মুক্ত করা হবে। সর্বোচ্চ দর অনুমোদিত হলে সংশ্লিষ্ট ক্রেতাকে ডাকমূল্যের ওপর ১০ শতাংশ অগ্রিম আয়কর ও ১৫ শতাংশ ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে। এরপর প্রযোজ্য আইন ও বিধি অনুসরণ করে পণ্য খালাস নিতে হবে।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পচনশীল পণ্য দ্রুত, স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তির জন্য, বন্দরের পণ্যজট কমানোর লক্ষ্যে, ধারণক্ষমতার সর্বোত্তম ব্যবহার এবং সরকারি রাজস্ব সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সহকারী কমিশনার নাজমুল হোসেন বলেন, "পচনশীল পণ্য দীর্ঘদিন বন্দরে পড়ে থাকলে একদিকে যেমন পণ্যের গুণগত মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে, অন্যদিকে বন্দরের মূল্যবান জায়গাও আটকে থাকে।" এসব পণ্য দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, পণ্যজট নিরসন ও রাজস্ব আহরণ নিশ্চিত করতে নিলামের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগ্রহী ক্রেতারা সরেজমিনে পণ্য পরিদর্শন করে নির্ধারিত নিয়মে নিলামে অংশ নিতে পারবেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন