প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতীয় সংসদে গান-বাজনা ও নৌকাবাইচ বন্ধ হওয়া নিয়ে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কওমি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ এবং কর্মসূচি প্রতিহতের হুমকির মুখে দুঃখপ্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহিতা চেয়ে সংসদে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছে। এ জন্য তিনি দুঃখপ্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও সিনেমা অনেকটা নিষিদ্ধের মতো। তার দাবি, এ বক্তব্যের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার দায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ ও আলেম-ওলামাদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন এবং তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের কনসার্ট বন্ধের ঘটনা প্রসঙ্গে হাসনাত বলেন, গণমাধ্যমে ঘটনাটি যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, বাস্তব চিত্র ছিল ভিন্ন। গভীর রাতে উচ্চ শব্দের কারণে মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছিল। এ কারণে শিক্ষার্থীরা শব্দ কমানোর অনুরোধ করেছিলেন।
তার ভাষ্য, এ নিয়ে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি থেকে পরবর্তী ঘটনা ঘটে এবং পুলিশের লাঠিপেটায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। তবে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা কনসার্ট বন্ধ করেননি; তারা শুধু শব্দ কমাতে বলেছিলেন।
হাসনাত বলেন, এর অর্থ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ সম্পর্কে ভুল বার্তা গেছে এবং তাদের ছোট করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নৌকাবাইচের প্রসঙ্গে নিজের তথ্যগত ভুল স্বীকার করে হাসনাত বলেন, সিলেটের জায়গায় ভুল করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বলে ফেলেছিলেন। এ ত্রুটির কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হওয়ায় তিনি বিব্রত এবং এ জন্য দুঃখপ্রকাশ করছেন।
তবে তিনি বলেন, মূল ঘটনা কী ছিল এবং গণমাধ্যমে বিষয়টি কীভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা নিয়ে সংসদে বিস্তারিত কথা বলা উচিত ছিল। কিন্তু সম্পূরক প্রশ্নের সময় সীমিত থাকায় বিস্তারিত বলার সুযোগ হয়নি।
পোস্টে হাসনাত আরও বলেন, তিনি ও তার দল জুলাইয়ের আদর্শ ধারণ করেন এবং সব নীতি ও সিদ্ধান্ত সেই আদর্শের ভিত্তিতেই নিতে চান। তার মতে, জুলাই একটি সর্বজনীন সমাজের স্বপ্ন দেখায়, যেখানে সব মানুষের অধিকার নিশ্চিত থাকবে এবং কেউ কারও মত বা দৃষ্টিভঙ্গি অন্যের ওপর চাপিয়ে দেবে না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সবার। এখানে মসজিদ, মন্দির, সংগীত, ওয়াজ, মাজার, কনসার্ট, মাহফিল, রথযাত্রা ও সিনেমা উৎসব—সবই থাকবে। পাশাপাশি বিজ্ঞ আলেমদের আলোচনারও সুযোগ থাকবে।
হাসনাতের ভাষ্য, যার যেটি পছন্দ, সে সেটিতে অংশ নেবে; আর যার পছন্দ নয়, সে সেখানে যাবে না। সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে, কেউ যেন অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে না পারে।
তিনি অভিযোগ করেন, সরকার বর্তমানে মানুষের সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না। এর ফলে সমতার বাংলাদেশ গড়ার প্রচেষ্টা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জুলাইয়ের আন্দোলনকে ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি নির্বিশেষে সবার আন্দোলন উল্লেখ করে হাসনাত বলেন, এটি ছিল মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার এবং সর্বজনীন সমাজ গড়ার আন্দোলন। বাংলাদেশের বৈচিত্র্যকে সম্মান করে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন