প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক এবং বিখ্যাত ক্লাব বোকা জুনিয়র্সের ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকা আন্তোনিও উবালদো রাত্তিন মারা গেছেন। ক্লাবটির ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই আইডলের মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।
রাত্তিন ১৯৬২ সালের চিলি বিশ্বকাপ এবং ১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলেছেন। ১৯৬৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক লাল কার্ডের ঘটনাবলীও জড়িয়ে আছে তার নামের সাথে।
এল রাতা’ নামে পরিচিত রাত্তিন বোকা জুনিয়র্সের অন্যতম প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। প্রচণ্ড লড়াকু মানসিকতা, আবেগ, দৃঢ় ব্যক্তিত্ব এবং নেতৃত্বগুণ দিয়ে তিনি এমন এক মডেল তৈরি করেছিলেন, যা পরবর্তীতে ক্লাবের কিংবদন্তি রুবেন ‘চাপা’ সুয়ে, ব্লাস আর্মান্দো জিউন্তা ও মরিসিও সেরনার মতো খেলোয়াড়রা অনুসরণ করেন।
আলবিসেলেস্তেদের এই কিংবদন্তির পুরো ক্যারিয়ারে মাত্র দুটি দলের জার্সি পরেছিলেন; বোকা জুনিয়র্স এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দল। বোকা জুনিয়র্সের যুব একাডেমি থেকে উঠে আসা রাত্তিনের ১৯ বছর বয়সে মূল দলে অভিষেক ঘটে এবং পুরো ক্যারিয়ারজুড়ে নীল-হলুদ জার্সি পরেই খেলেছেন।
১৫ বছরের পেশাদার ক্যারিয়ারে তিনি বোকা জুনিয়র্সের হয়ে ৩৮২ ম্যাচ খেলেছিলেন এবং প্রতিটি ম্যাচেই ছিলেন একাদশের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। ক্লাবটির হয়ে তিনি চারটি শিরোপা জিতেছিলেন, ১৯৬২, ১৯৬৪ ও ১৯৬৫ সালের লিগ চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ১৯৬৯ সালের কোপা আর্জেন্টিনা।
বোকায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তাঁর নেতৃত্ব ও উপস্থিতি তাকে স্বাভাবিকভাবেই আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের নিয়মিত সদস্যে পরিণত করে। রাত্তিন প্রায় এক দশক ধরে আর্জেন্টিনার জার্সি পরেছিলেন এবং ১৯৬২ চিলি বিশ্বকাপ ও ১৯৬৬ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে খেলেছিলেন।
১৯৬৬ বিশ্বকাপে তিনি ছিলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক এবং বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ঘটনার অংশ।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই ম্যাচে জার্মান রেফারি রুডলফ ক্রাইটলাইন তাকে মাঠ থেকে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তখনও হলুদ ও লাল কার্ডের প্রচলন ছিল না। ফলে পুরো ঘটনাটি দীর্ঘ সময় ধরে চলে। রাত্তিন প্রায় ১০ মিনিটেরও বেশি সময় মাঠে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেন এবং এমনকি রেফারি কী বলছেন তা বোঝার জন্য অনুবাদকও চান।
এই ঘটনার পরে ১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপ থেকে ফুটবলে হলুদ ও লাল কার্ড চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
তবে সেই ঘটনার সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত ছিল মাঠ ছাড়ার সময় রাত্তিনের প্রতিবাদী আচরণ। তিনি ব্রিটিশ পতাকা থাকা কর্নার ফ্ল্যাগ ভেঙে দেন এবং পরে রাজকীয় লাল কার্পেটে বসে পড়েন। এটি ছিল তার বিদ্রোহী মনোভাব ও দৃঢ় ব্যক্তিত্বের স্পষ্ট প্রকাশ।
সে সময়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচের সংখ্যা বর্তমানের তুলনায় অনেক কম ছিল। ফলে রাত্তিন ১৯৫৯ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত এক দশকে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে মোট ২১টি ম্যাচ খেলেছেন। এর মধ্যে ৫টি বিশ্বকাপ ম্যাচ এবং ৩টি কোপা আমেরিকার ম্যাচ রয়েছে। জাতীয় দলের হয়ে তিনি ১টি গোল করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন