প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশে পোস্টমর্টেমের জন্য নারী ডোম নিয়োগের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ মনির উদ্দিন জনস্বার্থে এই রিটটি দায়ের করেন।
এ রিটের বিবাদী হিসেবে স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্টদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে বাংলাদেশের বিভিন্ন পোস্টমর্টেম হাসপাতালগুলোতে নারীর মরদেহ সুরক্ষিত রাখতে একজন নারী ডোম নিয়োগের জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরে আবেদন করা হয়েছিল। আইনজীবী মনির উদ্দিন এ আবেদনটি করেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ একটি ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যময় রাষ্ট্র। ইসলামসহ সকল ধর্মের নারীর মরদেহ সতরের অন্তরালে রাখা বিধান রয়েছে। যদিও ময়নাতদন্ত একটি আইনি প্রক্রিয়া, তবে নারীদের ক্ষেত্রে পুরুষের স্পর্শ বা উপস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয়।
গত সময়ে পুরুষদের দ্বারা মৃত নারীর সাথে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলোর সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। যদি সেখানে নারী ডোম নিয়োগ করা হয়, তাহলে গোপনীয়তা ও মর্যাদা রক্ষা সম্ভব হবে। সড়ক দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো কারণে যদি কোনো নারী মারা যায়, তাহলে তার পরিবার আগেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকে।
তাদের যদি জানা যায়, কোনো পুরুষ সদস্য তাদের পরিবারের প্রিয় নারী সদস্যের পোস্টমর্টেম করবেন, তাহলে তা আরও হৃদয়বিদারক হতে পারে। যদি কোনো নারী ডোম তাদের এই কাজটি করত, তাহলে ওই দুঃসময়ে তারা কিছুটা আরাম পেত। বর্তমান যুগে নারীরা সব ক্ষেত্রেই পুরুষের সঙ্গে সমান অংশীদারত্ব করেছেন। ময়নাতদন্তের মতো ক্ষেত্রে নারীর উপস্থিতি ধর্মীয় আবেগ এবং বৈষম্য দূরীকরণে সহায়ক হবে।
আধুনিক সমাজের নারীর শরীরের সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি সময়োপযোগী দাবি। মানবাধিকার সনদের আলোকে, মৃত্যুর পরও একজন মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা প্রয়োজন।
মর্গে অনেক সময় পুরুষ ডোমের দ্বারা মৃত নারীর শরীরে বিকৃত যৌনাচারের ঘটনা ঘটেছে। গত ২২ অক্টোবর ২০২৫ সালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে এক তরুণীর মরদেহের সঙ্গে বিকৃত যৌনাচারের অভিযোগ উঠে মর্গের ডোম আবু সাঈদের (২৯) বিরুদ্ধে। মর্গের চিকিৎসক বিষয়টি নিশ্চিত করার পর তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং তা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছিল।
এছাড়াও, ২০ নভেম্বর ২০২০ সালে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে লাশের সঙ্গে যৌনাচারের অভিযোগে মুন্না ভগত (২০) নামে এক ডোমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তিনি নিজের দোষও স্বীকার করেন।
এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওহিওর এক মর্গ রক্ষী কেনেট ডগলাস (৬০) ১০০ জন নারীর মরদেহের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের কথা নিজের মুখে স্বীকার করেছে। তিনি ১৯৭৬ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত তার রাতের শিফটে ১০০টি নারীর মরদেহের সাথে যৌন সম্পর্ক করেছেন।
এ বিষয়গুলো বিবেচনা করে, বাংলাদেশের যেসব হাসপাতালে পোস্টমর্টেম হয়, সেসব হাসপাতালে একজন নারী ডোম নিয়োগের নির্দেশ এবং মরদেহের সম্ভ্রম রক্ষা করার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। আবেদনের সাড়া না পাওয়ায় এই রিট দায়ের করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন