প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামকে লক্ষ্য করে সদ্য পদত্যাগ করা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, যদি তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হয়, তবে তিনি নিজেই আত্মসমর্পণ করে কারাগারে যাবেন। একইসঙ্গে, মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে সমালোচনার প্রেক্ষিতে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া একটি পোস্টে ইশরাক এসব মন্তব্য করেন। এর আগে, একই দিন দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে নাহিদ ইসলামকে উদ্দেশ্য করে ইশরাক লেখেন, ‘জনাব নাহিদ ইসলামকে একটু হলেও নতুন বন্দোবস্তের ধারক ভাবতাম। আমার প্রসঙ্গে সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে মাদকের মহামারি ও এর প্রতিকার সম্পর্কে শূন্য শতাংশ কথা বলে ১০০ শতাংশ আমার ফৌজদারি অপরাধ খুঁজে বের করার পরামর্শ দিলেন তিনি।’
মাদক সমস্যার সমাধান নিয়ে আলোচনা না করে তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধ খোঁজার পরামর্শ দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ইশরাক। তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে তিনি লেখেন, ‘দুঃখিত জেন-জি, কোনো নতুন বন্দোবস্ত এদের মাধ্যমে পাচ্ছেন না।’
নাম উল্লেখ না করে আরেকজনের সমালোচনা করে ইশরাক বলেন, ওই ব্যক্তি তাঁকে ফোন করে পরবর্তী মাদকবিরোধী অভিযানে সঙ্গে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তাঁর ভাষ্য, মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও এ বিষয়ে কার্যকর পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের ভূমিকা নিয়ে তাঁর সংশয় রয়েছে।
নাহিদ ইসলামকে উদ্দেশ্য করে ইশরাক আরও লেখেন, ‘কোনো ফাঁকফোকর দিয়ে ফৌজদারি অপরাধ বের করে একটা মামলা করে দেন আমার নামে। আমি নিজে গিয়ে সারেন্ডার করে জেলে চলে যাবো। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা বলে কথা।’ তাঁর বক্তব্য, মাদক নির্মূলের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিবর্তে শুধু আইনি অভিযোগের বিষয়টি সামনে আনা যথাযথ নয়।
মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে ইশরাক লেখেন, ‘অন্য স্টাইলে প্রতিকার করতে হবে। যেমন কুকুর তেমন মুগুর।’ বড় মাদক ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি আরও লেখেন, ‘শীঘ্রই আসিতেছে। বড় ডিলার। বিক্রেতারা অপেক্ষা কর।’
এর আগে শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে ইশরাকের আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন তিনি। মাদকবিরোধী কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথাও জানান ইশরাক।
এদিকে, ইশরাকের পদত্যাগের প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেছেন, নৈতিক কারণে পদত্যাগ করা এবং ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগের মুখে পদত্যাগ করা এক বিষয় নয়। ইশরাক যদি কোনো অপরাধ করে থাকেন, তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন