প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিল। তবে সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি এখন ভেঙে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছে। বিশেষ করে, হরমুজ প্রণালী, যা বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট, সেটিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আবারও পাল্টাপাল্টি হামলায় জড়িয়ে পড়েছে। আগের যুদ্ধের ক্ষত শুকানোর আগেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
এসবের মধ্যেই মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল একটি প্রতিবেদনে জানাচ্ছে, বাহরাইনের মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদরদফতরে ইরানি বাহিনীর মুহুর্মুহু হামলা হচ্ছে। এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিনিদের নিজেদের স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে নতুনভাবে ভাবা বাধ্যতামূলক হয়ে পড়েছে।
নেভাল সাপোর্ট অ্যাক্টিভিটি বাহরাইন নামে পরিচিত এই ঘাঁটি মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের প্রধান কার্যালয় এবং এই অঞ্চলে মার্কিন নৌ-অপারেশনগুলোর প্রধান কমান্ড সেন্টার হিসেবেও কাজ করছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের বাইরে অবস্থিত এক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত।
গত ফেব্রুয়ারির শেষভাগ থেকে জুনের মধ্যে ইরান এই ঘাঁটিতে একাধিক দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা করে। যদিও একটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে অনেকগুলো হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছিল, কিন্তু কিছু ক্ষেপণাস্ত্র মূল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হামলায় ঘাঁটির প্রধান কমান্ড হেডকোয়ার্টার, আরও এক ডজনেরও বেশি ভবন এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত দুটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে পেন্টাগন সম্পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করেনি।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হামলার তীব্রতা বাড়ার আগেই বেশিরভাগ সেনা ও কর্মকর্তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ায় ঘাঁটিতে কেউ নিহত হয়নি। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানিয়েছেন, ভবন নয়, সামরিক বাহিনীর মূল লক্ষ্য ছিল মানুষের জীবন রক্ষা করা।
তিনি এ ব্যাপারে বলেন, এই কৌশলটি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। কারণ ইরান ৮ হাজারেরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করার পরও পুরো সংঘাতে মাত্র দুটি হামলায় মার্কিন সেনাদের প্রাণহানি ঘটেছে।
ইরানের এসব হামলা মার্কিন কর্মকর্তাদের স্তম্ভিত করেছে কারণ এটি প্রমাণ করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সুরক্ষিত সামরিক ঘাঁটিও পুরোপুরি নিরাপদ নয়। ইরান এমনসব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছে, যেগুলোর নির্মাণ ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত অত্যন্ত ব্যয়বহুল অস্ত্রের তুলনায় অনেক কম।
এছাড়া, ইরানের কাছাকাছি অবস্থিত বিশাল ও স্থায়ী ঘাঁটিগুলোও নিরাপদ কি না, তা নিয়ে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা সন্দিহান হয়ে পড়েছেন। এখন যুক্তরাষ্ট্র একটি নির্দিষ্ট স্থানে সেনা এবং সরঞ্জাম পুঞ্জীভূত করার পরিবর্তে তাদের বাহিনীকে একাধিক ঘাঁটিতে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। একই সাথে তারা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে সুরক্ষার উপায় উন্নত করার চেষ্টা করছে। সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন