প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিহারের জামুইয়ে কোচিং থেকে ফেরার সময় দশম শ্রেণির এক নাবালিকা এবং তার সহপাঠীকে আটকে মারধর ও যৌন হেনস্তার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এই ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শিশু যৌন অপরাধ প্রতিরোধ আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
রাহুল গান্ধী মন্তব্য করেছেন, "এই ধরনের জঘন্য আচরণ করার অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি।" তিনি আরও বলেন, নারীদের ওপর অন্যায় নিয়ন্ত্রণকে সংস্কৃতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করলে দুষ্কৃতিকারীরা নিজেদের আইন মনে করতে শুরু করে। তিনি এটিকে অন্ধ পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতার প্রকাশ বলেও উল্লেখ করেন।
ঘটনাটি ঘটে ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জামুইয়ের মাদওয়া পাহাড় এলাকায়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কোচিং শেষে স্কুটারে করে ওই এলাকায় গিয়েছিল দশম শ্রেণির দুই সহপাঠী। ফেরার পথে একটি যুবকের দল তাদের পথ আটকায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নাবালক ছাত্রটির সঙ্গে মারধর এবং নাবালিকা ছাত্রীর সঙ্গে অশালীন আচরণ করা হচ্ছে। ভিডিওতে তাদের মুক্তি দেওয়ার জন্য অনুরোধ করতেও দেখা যায়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর জামুই পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং ইতিমধ্যে তিন নাবালককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিও বিশ্লেষণ করে আরও কয়েকজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে। ঘটনাটির তদন্তে জামুইয়ের উপবিভাগীয় পুলিশ কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, শিশু যৌন অপরাধ প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়েছে। একইসঙ্গে নাবালকদের মুখ ও পরিচয় প্রকাশ করে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে ১৩টি ফেসবুক, ১২টি ইনস্টাগ্রাম এবং ৭টি এক্স অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে ভিডিও সরানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নাবালকের পরিচয় প্রকাশ করে ভিডিও ছড়ানো আইনত অপরাধ। ঘটনাটি কেন্দ্র করে বিহারে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়েছে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
নাবালিকা ও তার সহপাঠীর পরিচয় গোপন রেখেই তদন্ত এগিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন