প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌর এলাকার হেলাই গ্রামের শিক্ষার্থী রুকাইয়া পারভীন দারিদ্র্য ও বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যেও তার মেধার অসাধারণ পরিচয় তুলে ধরেছেন। ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ‘গোল্ডেন এ প্লাস’ অর্জন করে তিনি তার পরিবার ও এলাকার জন্য গৌরবের প্রতীক হয়ে উঠেছেন। তবে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে তিনি চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। আর্থিক সংকট তার স্বপ্নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা তার পরিবারের চরম অসচ্ছলতার কারণে হচ্ছে।
রুকাইয়া পারভীন হলেন কালীগঞ্জ পৌর এলাকার হেলাই গ্রামের ইজিবাইক চালক রকিব মল্লিক এবং লাভলী ইয়াসমিনের ছোট কন্যা। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি তার প্রবল আগ্রহ রয়েছে এবং অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন। ২০২৪ সালে সলিমুন্নেছা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ অর্জন করেন তিনি। এরপর সরকারি মাহতাব উদ্দিন কলেজ থেকে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে গোল্ডেন এ প্লাস অর্জন করে নিজের মেধার পরিচয় দেন।
তবে রুকাইয়ার এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে তার পরিবারের সীমাহীন সংগ্রাম এবং ত্যাগ। তার বাবা রকিব মল্লিক একজন ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চালক। প্রতিদিন ইজিবাইক চালিয়ে যে সামান্য আয় করেন, তা দিয়ে কোনোমতে সংসার চালান। পাশাপাশি মেয়ের উচ্চশিক্ষার ব্যয় বহন করা তার জন্য বর্তমানে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে মেধাবী মেয়ের ভবিষ্যৎ কীভাবে গড়বেন, তা নিয়ে তিনি চিন্তিত।
রুকাইয়া পারভীন জানান, "ছোটবেলা থেকেই ভালোভাবে পড়াশোনা করে প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন দেখছি। আমার লক্ষ্য বুয়েটে (বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়) ভালো কোনো বিষয়ে ভর্তি হওয়া। কিন্তু আমার পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। বাবার একার পক্ষে উচ্চশিক্ষার বিপুল খরচ বহন করা অসম্ভব। সমাজের বিত্তবান ও শিক্ষানুরাগীরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে আমি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারব।"
রুকাইয়ার বাবা রকিব মল্লিক বলেন, "মেয়ের প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন পূরণের জন্য বর্তমানে সে খুলনায় থেকে কোচিং করছে। কিন্তু আমি সামান্য ইজিবাইক চালক; প্রতিদিন যা আয় করি, তা দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। কোনো সহৃদয় ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এলে মেয়েটির স্বপ্ন বাঁচানো সম্ভব।"
রুকাইয়ার পরিবার এবং এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, তার অসাধারণ ফলাফল বিবেচনা করে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক প্রতিষ্ঠানগুলো সহায়তার হাত বাড়িয়ে আসবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন