প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বগুড়ায় জজ পদায়ন সংক্রান্ত সরকারি আদেশ অমান্য করার অভিযোগ উঠেছে এক পাবলিক প্রসিকিউটরের (পিপি) বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় আদালতপাড়ায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
সরকারি প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা অনুযায়ী, নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণে বাধা সৃষ্টি এবং আদালত বর্জনের কর্মসূচি নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে বিরোধ, তর্ক-বিতর্ক ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে আদালতের স্বাভাবিক বিচারিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় বিচারপ্রার্থীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর জারি হওয়া সরকারি আদেশ (জিও) অনুযায়ী, নিয়োগপ্রাপ্ত জেলা জজের দায়িত্ব গ্রহণে বাধা সৃষ্টি এবং সেই আদেশের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামার ঘটনায় বগুড়া বারের পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট আব্দুল বাছেদসহ তাদের অনুসারী আইনজীবীদের বিরুদ্ধে সরকারি সিদ্ধান্ত অমান্য ও আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলেছেন অ্যাডভোকেট আব্দুল ওহাব।
অ্যাডভোকেট আব্দুল ওহাবের দাবি, সরকারি প্রজ্ঞাপন বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করে আদালতের কার্যক্রম ব্যাহত করা কোনভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। তিনি বলেন, "এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।"
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি জানান, বগুড়ায় তিন মাসেরও বেশি সময় জেলা ও দায়রা জজের পদ শূন্য ছিল। ভারপ্রাপ্ত জেলা জজের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হলেও এতে বিচারপ্রার্থীদের প্রত্যাশিত সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। দীর্ঘদিনের এ সংকট নিরসনে সরকার সরকারি আদেশের মাধ্যমে একজন জেলা জজ নিয়োগ দেয়। কিন্তু নিয়োগের পর নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে।
আব্দুল ওহাবের অভিযোগ, জেলা জজ নিয়োগের সরকারি আদেশ জারির পর বগুড়া বার সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও দুজন সদস্য সংবাদ সম্মেলন করে আদালত বর্জনের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, "বার সমিতির নির্বাহী কমিটি কিংবা সাধারণ সভায় যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করে এ ধরনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়ে থাকলে তা সমিতির সাংগঠনিক বিধিবিধানের পরিপন্থী।" একই সঙ্গে সরকারি আদেশ বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করা হলে তা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অমান্যের শামিল।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, পিপিসহ তাদের অনুসারী আইনজীবীরা নতুন জেলা জজের দায়িত্ব গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করছেন। যদিও সংশ্লিষ্ট পক্ষ এ ধরনের বাধা দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করছে বলে তিনি শুনেছেন। সরকারি আদেশের পক্ষে অবস্থান নেওয়া আইনজীবীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আব্দুল ওহাব বলেন, "সরকারি প্রজ্ঞাপন বা আদেশের বিরুদ্ধে আপত্তি থাকলে তা আইনসম্মত ও প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতিতে উত্থাপন করা যেতে পারে। কিন্তু সেই অজুহাতে সরকারি আদেশের বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি কিংবা আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করা গ্রহণযোগ্য নয়।" তার মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিচারব্যবস্থার স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি বিচারপ্রার্থীদের অধিকারও ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, আইনজীবীরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার কাজে নিয়োজিত। তাই তাদের কাছ থেকেই আইন ও বিধিবিধানের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধাশীল আচরণ প্রত্যাশিত। বিশেষ করে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিত। অথচ বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের কর্মকাণ্ডে দায়িত্বশীলতার ঘাটতি দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আদালতের অচলাবস্থা নিরসনে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে আব্দুল ওহাব বলেন, "বগুড়ার আদালতের ঐতিহ্য ও সুনাম রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।" সরকারি আদেশ বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি এবং আদালতের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার অভিযোগের বিষয়টি গণমাধ্যমে তুলে ধরার জন্যও সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
একই সঙ্গে বগুড়া বার সমিতির উন্নয়নে সরকারি সহযোগিতা কাজে লাগিয়ে একটি সমৃদ্ধ, আধুনিক ও ঐতিহ্যবাহী বার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আইনজীবীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তবে সরকারি আদেশ অমান্য, নতুন জেলা জজের দায়িত্ব গ্রহণে বাধা সৃষ্টি এবং আদালত বর্জনের কর্মসূচির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বগুড়া আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট আব্দুল বাছেদ। তিনি বলেন, "আদালত সচল রাখতে আমি দু-পক্ষের মধ্যে সমন্বয় করার চেষ্টা করছি। আদালত বর্জনের পুরো সিদ্ধান্ত নিয়ে বগুড়া বার সমিতি।"
বগুড়া বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জানান, পদায়নকৃত জেলা ও দায়রা জজকে ফ্যাসিবাদের দোসর বলে আইনজীবীরা আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, "৫ আগষ্ট পরবর্তী আন্দোলনের মুখে তিনি বগুড়া থেকে যেতে বাধ্য হয়েছেন। বগুড়া থেকে তাকে না সরানো পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। এটাই বার সমিতির সিদ্ধান্ত।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন