প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের একটি দুর্গম ক্যানিয়নে বেস জাম্পিং করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন বিশ্বখ্যাত চরম ক্রীড়া অ্যাথলেট অ্যান্ডি লুইসে। মিনারেল বটম এলাকায় এই দুর্ঘটনার ঘটনায় তার সঙ্গে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। দ্বিতীয় নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনও প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় প্রশাসনের সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্র উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৪৩ বছর বয়সী অ্যান্ডি লুইস এবং ৫০ বছর বয়সী অপর এক ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে।
অ্যান্ডি লুইস ছিলেন বেস জাম্পিং, স্ল্যাকলাইন ও ট্রিকলাইন জগতের অন্যতম পরিচিত মুখ। তিনি সুপার বোল হাফটাইম শোতে পপ তারকা মেডোনার সঙ্গে মঞ্চে পারফর্ম করে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি লাভ করেছিলেন। ওই অনুষ্ঠানে রোমান পোশাক পরে স্ল্যাকলাইনের ওপর বিভিন্ন কসরত প্রদর্শন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন তিনি।
সহকর্মী ও প্রশিক্ষক ম্যাকএভয় বলেন, অ্যান্ডি ছিলেন অসাধারণ দক্ষ একজন অ্যাথলেট। তবে তিনি সবসময় অন্যদের তুলনায় বেশি ঝুঁকি নেওয়া পছন্দ করতেন। দীর্ঘ সময়ের অনুশীলনের মাধ্যমে তিনি অসাধারণ দক্ষতা অর্জন করেছিলেন, কিন্তু একই সঙ্গে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কসরতেও অংশ নিতেন।
বেস জাম্পিং বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ চরম ক্রীড়াগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। এই খেলায় অংশগ্রহণকারীরা উঁচু ভবন, সেতু কিংবা পাহাড়ের চূড়া থেকে লাফ দিয়ে প্যারাস্যুটের সাহায্যে নিচে অবতরণ করেন। বিভিন্ন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৮১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে অন্তত ৫৪০ জন বেস জাম্পার প্রাণ হারিয়েছেন। শুধু গত বছরেই এই খেলায় মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৩০।
২০০৭ সালে নরওয়েতে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, স্কাইডাইভিংয়ের তুলনায় বেস জাম্পিংয়ে গুরুতর আহত হওয়া বা মৃত্যুর ঝুঁকি পাঁচ থেকে আট গুণ বেশি।
অ্যান্ডি লুইস নিজেও এই খেলার প্রাণঘাতী ঝুঁকির বিষয়টি স্বীকার করেছিলেন। গত বছর এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "কত মানুষ মারা গেছে, এটা ভাবলে অদ্ভুত লাগে। কারণ আমাদের জন্য এটি যেন স্বাভাবিক একটি বিষয় হয়ে গেছে।"
লুইস ছিলেন 'বেস জাম্প মোয়াব'-এর মালিক। প্রতিষ্ঠানটি অনভিজ্ঞ গ্রাহকদের জন্য অভিজ্ঞ গাইডের সঙ্গে ট্যান্ডেম বেস জাম্পের ব্যবস্থা করত। তবে দুর্ঘটনার সময় তিনি ট্যান্ডেম জাম্প করছিলেন কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।
ক্রীড়া জীবনে অ্যান্ডি লুইস উল্লেখযোগ্য সাফল্যের অধিকারী ছিলেন। ২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা চারবার প্রতিযোগিতামূলক স্ল্যাকলাইনে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হন তিনি। ২০১১ সালে চীনের দেয়াওশুইলো জলপ্রপাতের ওপর স্ল্যাকলাইন সার্ফিং করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম লেখান। এছাড়া ২০১৪ সালে নেভাদা মরুভূমিতে প্রায় চার হাজার ফুট উচ্চতায় দুটি বেলুনের মাঝে ঝুলন্ত স্ল্যাকলাইনের ওপর হেঁটে আরেকটি বিস্ময়কর কীর্তি গড়েন।
তার আকস্মিক মৃত্যুতে চরম ক্রীড়া জগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মী, ভক্ত এবং ক্রীড়াঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করে তার সাহস, দক্ষতা ও অবদানের কথা স্মরণ করছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন