প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কেন্দ্রে কয়েক হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। গতকাল শুক্রবার (৩১ জুন) তারা সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকে পুনর্বহাল করার অর্থে এই প্রতিবাদ করেন।
ফেদোরভ চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে সরকারী রদবদলের অংশ হিসেবে তাকে হঠাৎ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সরকার তার অপসারণের সুষ্ঠু কারণ প্রকাশ করেনি।
এবার থেকে, বিক্ষোভকারীরা রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কির কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে ফেদোরভকে আবার মন্ত্রী করার পক্ষে দাবি তুলছেন।
ফেদোরভ এখনও পর্যন্ত অন্য কোনো সরকারি পদ গ্রহণ করেননি। ৪০ বছর বয়সী তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কর্মী ওলেক্সান্দর বলেন, ‘কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরে যদি তার কারণ ব্যাখ্যা করা না হয়, তাহলে সেটি মেনে নেওয়ার পক্ষে খুব কঠিন।’
রাষ্ট্রপতি জেলেনস্কি প্রাথমিকভাবে বলেছিলেন যে, তখনকার সেনাপ্রধান ওলেক্সান্দর সিরস্কির সাথে বড় ধরনের মতবিরোধের জন্য ফেদোরভকে অপসারণ করা হয়েছে। তবে জনমতের চাপের জন্য এক সপ্তাহ পরে সিরস্কিকেও পদ থেকে অপসারণ করা হয়।
এরপর থেকেই এ ধারণা গুরত্ব পেয়েছে যে, বলা হয় প্রতিরক্ষা খাতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার কারণেই ফেদোরভকে অপসারণ করা হয়েছিল। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে ফেদোরভ তার ভাবনাগুলি প্রকাশ করেছেন, যা সেই ধারণা আরও জোরালো করেছে, যদিও তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
তার অপসরণের পর থেকে ইউক্রেনের অনেক মানুষ রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে তাকে পুনর্বহালের দাবি তুলছেন। ফেদোরভ অন্য কোনো সরকারি পদ গ্রহণে রাজি হননি। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কর্মী ৪০ বছর বয়সী ওলেক্সান্দর বলছেন, ‘কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর যদি তার কারণ স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা না হয়, তাহলে সেটি মেনে নেওয়ার পক্ষে খুব কঠিন।’
প্রাথমিকভাবে রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছিলেন যে, তৎকালীন সেনাপ্রধান ওলেক্সান্দর সিরস্কির সঙ্গে গুরুতর মতবিরোধের কারণেই ফেদোরভকে সরানো হয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে জনমতের চাপের কারণে সিরস্কিকেও পদ থেকে অপসারণ করা হয়। এরপর থেকেই জল্পনা শুরু হয়, প্রতিরক্ষা খাতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার কারণেই ফেদোরভকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার বিক্ষোভকারীরা কিয়েভের ঐতিহাসিক জায়গায় মিছিল করেন রাষ্ট্রপতির দৃষ্টি আকর্ষণের লক্ষ্যে। পরে তারা রাজধানীর প্রধান সড়ক ক্রেশচাটিতে সমবেত হন।
বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী অনেকের ধারণা, সেনাবাহিনীর প্রযুক্তিগত আধুনিকীকরণ ছাড়া রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে সফল হওয়া সম্ভব নয়। তারা বিশ্বাস করেন যে, এই আধুনিকায়নের অন্যতম বড় উদ্যোক্তা হলেন মিখাইলো ফেদোরভ।
ফেদোরভকে অপসারণ করা হয়েছিল এমন সময়ে, যখন ইউক্রেন রাশিয়ার সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনায় দূরপাল্লার হামলা বাড়াচ্ছিল এবং যুদ্ধের সামনের সারিতে অগ্রগতির দাবি করছিল। তবে এখনও পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কোনও সংকেত দেখাননি। তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থার ভারপ্রাপ্ত প্রধান ইয়েভহেনি খমারাকে নিয়োগ দিয়েছেন। ইউক্রেনের আইন অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর পদটি একটি বেসামরিক পদ।
কিয়েভভিত্তিক ইউরোপিয়ান পলিসি ইনস্টিটিউটের পরিচালক মাত্তেও মেকাচ্চি বলেন, নতুন শীর্ষ সামরিক কমান্ডার হিসেবে মিখাইলো দ্রাপাতির নিয়োগ কিছু মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে, তবে সবার মধ্যে নয়। তিনি বলেন, কেবল নতুন কাউকে নিয়োগ দিলেই সংকটের সমাধান হবে না। এখন ফেদোরভকে আবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবে ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। তাই সরকারের উচিত কার্যকরভাবে এই সংকট মোকাবিলা করা।
বিক্ষোভের অন্যতম সংগঠক এবং সাবেক সেনাসদস্য দিমিত্রো কোজিয়াতিনস্কি বলেন, রাষ্ট্রপতি জেলেনস্কির উচিত ফেদোরভকে প্রতিরক্ষা খাতে সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য অন্তত এক বছরের সময় দেওয়া। এরপর তার কাজের ফলাফল মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। শুক্রবার বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ইউক্রেনীয়রা জানিয়েছেন, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেন, ‘জনগণই শক্তি।’
কিয়েভভিত্তিক ইউরোপিয়ান পলিসি ইনস্টিটিউটের পরিচালক মাত্তেও মেকাচ্চি বলেন, বেসামরিক নেতৃত্বের অধীনে রাষ্ট্র পরিচালনা একটি মৌলিক গণতান্ত্রিক নীতি। তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইউক্রেনীয়রা আবারও প্রমাণ করেছেন, তারা কীসের জন্য লড়াই করছেন।
তিনি আরো জানিয়েছেন, এই বিক্ষোভ প্রমাণ করে যে ইউক্রেনের মানুষ বিষয়টিকে কেবল সরকারি কর্মকর্তাদের অভ্যন্তরীণ বিরোধ হিসেবে দেখছেন না। তাদের কাছে এটি যুদ্ধ পরিচালনার কার্যকারিতা এবং দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন