প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সৌভাগ্যবান সেই ব্যক্তি, যে সুস্থতাকে একটি সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে এবং সর্বোত্তম লক্ষ্য অর্জনের জন্য চেষ্টা করে। মুমিনের জানা উচিত, দুনিয়াতে যত বেশি নেক কাজে সচেষ্ট হবে, জান্নাতে তার আবাস তত প্রশস্ত হবে। জীবন যদিও সংক্ষিপ্ত, কিন্তু পুণ্যের প্রয়োজন অনেক বেশি। তাই আলস্য ও ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলে দ্রুত অগ্রসর হতে হবে। জান্নাতে কষ্টের পরের সুখ, দুশ্চিন্তার পরের আনন্দ, ব্যথার পরের প্রশান্তি কতই না মধুর হবে। যখন মুমিন জান্নাতের চিরস্থায়ী সুখ ও আনন্দের কল্পনা করে, তখন যেকোনো বিপদ ও কষ্ট সহ্য করা তার জন্য সহজ হয়ে যায়।
ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলতেন, "আমরা আমাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় ধৈর্যের সঙ্গে কাটিয়েছি। তোমরা তাওবাকারীর সঙ্গ গ্রহণ করো, কেননা তাদের অন্তর সবচেয়ে কোমল। শীত পুণ্য লাভের সুবর্ণ সুযোগ।" তিনি আরো বলতেন, "যদি তিনটি বিষয় না হতো পৃথিবীতে বেঁচে থাকা আমি পছন্দ করতাম না : ১. যদি না আমি প্রতিদিন পাঁচবার আল্লাহর দরবারে মাথানত করতাম, ২. যদি না আমি আমার সেসব ভাইয়ের সঙ্গে বসতাম, যারা সর্বোত্তম ফল বেছে নেওয়ার মতো সর্বোত্তম কথাকে বেছে নেয় (দ্বিনি মজলিস উদ্দেশ্য), ৩. যদি না আমি আল্লাহর পথে যুদ্ধ করতাম।"
হাসান বসরি (রহ.) বলেন, "হে মানুষ! মৃত্যু ছাড়া আল্লাহ তোমাদের ইবাদতের কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করেননি। সুতরাং তোমাদের জন্য আবশ্যক হলো নেক আমলের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা।" আল্লাহ তাআলা বলেছেন, "তোমার মৃত্যু আসার আগ পর্যন্ত তোমার প্রভুর ইবাদত কোরো।" (সুরা হুজুরাত, আয়াত : ৯৯)
তোমরা এমন জীবন অতিবাহিত করছ, যখন সময় ক্রমেই কমছে, আমলগুলোর হিসাব সংরক্ষণ করা হচ্ছে, মৃত্যু তোমাদের মাথার ওপর এবং জাহান্নাম তোমাদের সামনে। তিনি আরো বলতেন, মুমিন সকালেও চিন্তিত থাকে, সন্ধ্যায়ও চিন্তিত থাকে। সে কখনো চিন্তামুক্ত হতে পারে না। সব সময় তার মনে, দুটি ভয় জাগ্রত থাকে : ১. অতীতের গুনাহ, আল্লাহ কি তা ক্ষমা করবেন? ২. আগামীর দিনগুলো, সেখানে কোনো পাপ হয়ে যাবে না তো? দরবেশ শাকিক বলখি (রহ.) বলেন, তাওবার নিদর্শন হলো : অতীত পাপের জন্য কান্না করা, ভবিষ্যতে পাপে লিপ্ত হওয়ার ভয় করা, অসৎসঙ্গ ত্যাগ করা এবং সৎসঙ্গ গ্রহণ করা।
বিখ্যাত সাহাবি শাদ্দাদ বিন আউস (রা.) বিছানায় ঠিক সেভাবে ছটফট করতেন যেভাবে তাওয়ার ভেতর শস্যদানা ছটফট করে। তাঁর ঘুম আসত না। তিনি বলতেন, "হে আল্লাহ! জাহান্নামের ভয় আমার ঘুম কেড়ে নিয়েছে।" এরপর তিনি দাঁড়িয়ে যেতেন এবং ফজর পর্যন্ত নামাজ পড়তেন।
উহাইব ইবনুল ওয়ার্দ (রহ.) বলেন, একজন নারী একবার তাওয়াফ করছিলেন এবং তিনি হাত তুলে আল্লাহকে বলছিলেন, "হে আমার প্রভু! জীবনের স্বাদ-আহ্লাদ শেষ হয়েছে এবং পরিণতি অবশিষ্ট আছে। হে আমার প্রভু! আপনি পবিত্র, যাবতীয় সম্মান আপনার, আপনি পরম দয়ালু! হে আমার প্রভু! জাহান্নাম ছাড়া শাস্তি দানের আর কি কোনো উপায় নেই!" তখন তাঁর একজন সঙ্গী বলল, "হে আমার বোন! আপনি আজ আল্লাহর ঘরে প্রবেশ করেছেন, আল্লাহর প্রতি ভালো আশা করুন।" সে বলল, "আমি আমার পা দুটিকে তাওয়াফ করার উপযুক্ত মনে করি না, তাহলে আমি কিভাবে আশা করব—এই দুই পা দিয়ে আমি জান্নাতে আমার প্রভুর ঘরে প্রবেশ করব? আমি জানি, এই পা কোথায় কোথায় গিয়েছে।" অতঃপর সে আবার কান্না শুরু করল।
সুতরাং হে আমার ভাই! ভগ্ন হৃদয় নিয়ে আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হও, অনুতপ্ত হয়ে কান্না করো, বিনয়ী ও বিনম্র হও, চোখের পানিকে পুঁজি হিসেবে গ্রহণ করো এবং তাকে চোখের সুরমা বানাও, আল্লাহর শাস্তিকে ভয় করো। বিনীত হয়ে বলো, "হে আল্লাহ! জীবনে কত পাপ করেছি আপনি তা আড়াল করেছেন, কত গুনাহ করেছি আপনি সব দেখেছেন, দয়া ও অনুগ্রহ করে আপনি আমাদের ক্ষমা করে দিন।"
আল্লাহ সবাইকে পাপমুক্ত সুন্দর জীবন দান করুন। আমিন।
মাওয়ায়িজুল আখিরাহ থেকে মো. আবদুল মজিদ মোল্লার ভাষান্তর
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন