প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সাবেক প্রিমিয়ার লিগ গোলরক্ষক কেভিন মিলার আর আমাদের মধ্যে নেই। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র ৫৭ বছর। ইংলিশ ফুটবলে তাঁর আকস্মিক মৃত্যুর খবর শোকের ছায়া ফেলেছে।
চার দশকের ফুটবল জীবনে মিলার ৭০০’র বেশি পেশাদার ম্যাচ খেলেছেন। মৃত্যুর পূর্বে তিনি উইগান অ্যাথলেটিকের প্রথম দলের গোলরক্ষক কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে সাবেক ও বর্তমান ক্লাবগুলো শোক প্রকাশ করেছে। খবরটি গোল ডটকমের।
মিলারের চলে যাওয়া তাঁর পরিবারের জন্য বিশেষভাবে বেদনাদায়ক। তিনি স্ত্রী ফিওনা ও মেয়ে এসমিকে রেখে গেছেন। তবে শুধু পরিবার নয়, যাঁরা মাঠে কিংবা মাঠের বাইরে তাঁর সঙ্গে কাজ করেছেন, তাঁদের জন্যও মিলারের শূন্যতা সহজে পূরণ হবে না। উইগানে যোগ দেওয়ার পর তাঁর সময়টা খুবই কম ছিল, কিন্তু অল্প সময়েই তিনি খেলোয়াড় ও স্টাফদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন।
উইগান অ্যাথলেটিক জানায়, মিলারের গোলরক্ষক হিসেবে অভিজ্ঞতা, পেশাদারি ও কাজের প্রতি ভালোবাসা ছিল স্পষ্ট। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়ে উঠেছিল মানুষ হিসেবে তাঁর উষ্ণ ও প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্ব। ক্লাবটির ভাষায়, ফুটবলে তাঁর অবদান গুরুত্বপূর্ণ হলেও, যাঁরা তাঁকে কাছ থেকে চিনতেন, তাঁদের কাছে তিনি মানুষ মিলার হিসেবেই বেশি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
মিলারের ফুটবলজীবনের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল এক্সেটার সিটি। ১৯৮৯ সালে এই ক্লাবের হয়ে পেশাদার ফুটবলে অভিষেক ঘটে তাঁর। তিনি দুই দফায় এক্সেটারের হয়ে ২৫২ ম্যাচ খেলেছেন এবং ক্লাবটির হয়ে চতুর্থ স্তরের লিগ শিরোপা জয়ী ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি কোচ হিসেবেও প্রিয় ক্লাবটিতে ফিরে আসেন।
এরপর বার্মিংহাম সিটি ও ওয়াটফোর্ডে খেলার পর, ১৯৯৭ সালে প্রায় ১৫ লাখ পাউন্ড ট্রান্সফার ফিতে মিলার ক্রিস্টাল প্যালেসে যোগ দেন। ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে তিনি প্যালেসের ৩৮টি ম্যাচেই গোলবারের নিচে ছিলেন। যদিও দলটি সে মৌসুমে অবনমিত হয়েছিল, মিলার সেখানে থেকে যান এবং চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে মিলার ওয়াটফোর্ড, ক্রিস্টাল প্যালেস, বার্মিংহাম সিটি, বার্নসলে, ব্রিস্টল রোভার্স, সাউদাম্পটন ও টরকোয়ে ইউনাইটেডের মতো ক্লাবে খেলেছেন। সব মিলিয়ে পেশাদার ফুটবলে তাঁর ম্যাচসংখ্যা ছিল ৭৩৮।
খেলোয়াড়ি জীবন শেষে গোলরক্ষক কোচ হিসেবেও নিজের অভিজ্ঞতা বিলিয়ে দিয়েছেন মিলার। এক্সেটারে সাড়ে তিন বছর কাজ করার পর, চলতি গ্রীষ্মে তিনি উইগানে যোগ দেন। পুরোনো বন্ধু ও এক্সেটারের সাবেক কোচ গ্যারি ক্যালডওয়েলের সঙ্গে নতুন অধ্যায় শুরু করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই অধ্যায়টি দীর্ঘ হলো না।
৫৭ বছর বয়সে তাঁর আকস্মিক বিদায় শুধুমাত্র একজন সাবেক ফুটবলারের মৃত্যু নয়; এটি পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী, খেলোয়াড় ও সমর্থকদের কাছে একজন আপন মানুষের হারিয়ে যাওয়া। ইংলিশ ফুটবলে তাঁর রেখে যাওয়া স্মৃতি দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন