প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সংকট এবং উৎপাদন খাতে বড় ধরনের বিঘ্নের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কাতার। কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি ‘কাতারএনার্জি’ (QatarEnergy) অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষস্থানীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান ‘উডসাইড এনার্জি’র (Woodside Energy) সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক ২০ বছরের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির আওতায়, কাতার যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রতি বছর প্রায় ৩০ লক্ষ টন (৩ মিলিয়ন টন) তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি (LNG) কিনবে।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা এলএনজি প্রকল্প থেকে এই গ্যাস সরবরাহ করা হবে। ফ্রি-অন-বোর্ড (FOB) শর্তে এই সরবরাহ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রকল্পটির দ্বিতীয় লিকুইফ্যাকশন ট্রেনের উৎপাদন শুরু হলে প্রাথমিক চালান আসা শুরু হবে এবং তৃতীয় ট্রেনের কাজ সম্পন্ন হলে সরবরাহের পরিমাণ পূর্ণ বাৎসরিক ৩ মিলিয়ন টনে উন্নীত হবে। লুইজিয়ানার লেক চার্লসের কাছে অবস্থিত এই মেগা প্রকল্পটিতে মোট তিনটি ট্রেন রয়েছে, যার সম্মিলিত বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ১ কোটি ৬৫ লক্ষ টন। মার্কিন এই প্রকল্প থেকে প্রথম দফার বাণিজ্যিক গ্যাস সরবরাহ আনুষ্ঠানিকভাবে ২০৩০ সালে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের কারণে কাতার নিজেদের সরবরাহ ঘাটতি মোকাবেলা করতে মার্কিন বাজারের ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে। সম্প্রতি রাস লাফান শিল্পাঞ্চলে হামলার ফলে কাতারের নিজস্ব এলএনজি উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ১৭ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এর উৎপাদন পুনরুদ্ধার করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলে শঙ্কা রয়েছে। এছাড়া, হরমুজ প্রণালীতে পরিবহন বিঘ্নিত হওয়া এবং নিজস্ব চালানের ওপর বলপূর্বক নিয়ন্ত্রণ বা 'ফোর্স মেজর' (Force Majeure) পরিস্থিতির মেয়াদ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর কারণে বৈশ্বিক বাজারে শক্তির বিকল্প উৎস হিসেবে মার্কিন এলএনজি সংগ্রহকে কৌশলগত প্রতিরক্ষা বা হেজ হিসেবে দেখছে দোহা।
এই চুক্তির ফলে কাতারএনার্জি বর্তমান বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ এলএনজি রফতানিকারক হওয়ার পাশাপাশি মার্কিন এলএনজির সবচেয়ে বড় ক্রেতা হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেছে। টেক্সাসের গোল্ডেন পাস প্রকল্প এবং সম্প্রতি চেনিয়ারের (Cheniere) সঙ্গে হওয়া চুক্তির ধারাবাহিকতায় উডসাইডের সঙ্গে এই নতুন চুক্তি কাতারএনার্জির দীর্ঘমেয়াদী বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ও বৈচিত্র্যকরণ কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন