প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল ব্যবহার শুরু করা। এ অভ্যাসকে ‘আপডেটেড’ থাকা বলা যেতেই পারে। তবে চিকিৎসকরা এক্ষেত্রে সতর্ক করেছেন, এই অভ্যাস আপনার মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এ কারণে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। কারণ ঘুম ভাঙার পর মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্র অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় থাকে এবং ধীরগতিতে কাজ করে। এ সময়ে মনোযোগ, আবেগ নিয়ন্ত্রণ কিংবা সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো কাজগুলো যথাযথভাবে করা সম্ভব নয়।
ঘুম থেকে ওঠার পর ব্রেন ও নার্ভ অ্যাকটিভ হতে কিছুটা সময় লাগে। ওই মুহূর্তে আপনি যদি মোবাইল ব্যবহার শুরু করেন, তাহলে মস্তিষ্কের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়। একসঙ্গে একাধিক তথ্য বোঝা বা চিন্তাভাবনার জন্য মস্তিষ্ক প্রস্তুত থাকে না। এর ফলস্বরূপ মস্তিষ্কে অস্বাভাবিক চাপ সৃষ্টি হয় এবং মানসিক ক্লান্তি শুরু হয়।
একটা বালিশের অভাব থাকলেও সেটা manageable। কিন্তু ঘুমানোর সময়ে মোবাইল পাশে রাখা হলে তা পরিত্যাগ করতে হবে। কারণ বর্তমানে কেউ খুব একটা অ্যালার্ম দেয়ার জন্য ঘড়ি ব্যবহার করে না। মোবাইলের মাধ্যমেই অ্যালার্ম সেট করা থাকে। যখন সেটি বাজে, তখন ঘুমচোখে হাতড়াতে থাকে মোবাইল ফোন। চোখ কচলাতে কচলাতে আঙুল স্মার্টফোনের স্কিনে ঠেকানো হয়। সারারাতের জমা হওয়া নোটিফিকেশন ও মেসেজ দেখে মানুষ দিন শুরু করে। এ অভ্যাসকে ‘আপডেটেড’ থাকা বলা যেতে পারে। কিন্তু চিকিৎসকরা জোর দিয়ে বলছেন, এই অভ্যাস আপনার মস্তিষ্কে রীতিমত ক্ষতি করছে এবং আপনার স্বাস্থ্যের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলছে।
সকালে ঘুম থেকে উঠে স্বাভাবিকভাবেই শরীরে কর্টিসল (স্ট্রেস হরমোন) লেভেল বেশি থাকে। এ হরমোন আমাদের জেগে উঠতে সাহায্য করে। যখন আপনি ঘুম ভাঙা চোখে মোবাইল চেক করেন, তখন এ হরমোনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট ও মেসেজ, যা মানসিক চাপ তৈরি করে, সেগুলোর কারণে কর্টিসলের ক্ষরণ বাড়ছে। এ কারণে মানসিক উদ্বেগ ও স্ট্রেস বৃদ্ধি পায় এবং স্নায়ুতন্ত্র উত্তেজিত হয়ে উঠে।
এছাড়া এ ধরনের অভ্যাস তৈরির ফলে ক্রনিক স্ট্রেস বৃদ্ধি পায়। মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে এই অভ্যাস ত্যাগ করা উচিত। যদি দিনের শুরুতেই মানসিক চাপ থাকে, তা হলে গোটা দিনটাই বিগড়ে যেতে পারে। মনোযোগ নষ্ট হয়ে যায় এবং দিনভর মানসিক ক্লান্তি কাজ করে। সারা দিন মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকে। সাধারণভাবে অনেকেই এসব লক্ষণ বুঝতে পারেন না এবং এর ফলে ক্রনিক ডিপ্রেশন সৃষ্টি হতে পারে। এই স্ট্রেসের পাশাপাশি বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক চাপও থাকে, যা মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যাপক ক্ষতি করে।
সুতরাং, ঘুম থেকে উঠার পর মোবাইলে হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। অ্যালার্মের জন্য একটি ঘড়ি ব্যবহার করাই ভালো। ঘুম থেকে ওঠার অন্তত ২০-৩০ মিনিট পরে মোবাইলে হাত দিন এবং আপনার মস্তিষ্ককে সক্রিয় হওয়ার জন্য সময় দিন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন