প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সম্প্রসারিত সামরিক অভিযানের মধ্যে দেশটির ঐতিহাসিক বিউফোর্ট দুর্গ দখল করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এই ঘটনা রবিবারে ঘটেছে। ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এই দখল বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল বারবার ওই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।
১৯৮২ সালের লেবানন যুদ্ধে নিহত ইসরায়েলি সেনাদের স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, গ্যালিলি অঞ্চলের জনপদগুলোর ওপর নজর রাখায় ব্যবহৃত পাহাড়চূড়াগুলোতে আবারও ইসরায়েলের পতাকা উড়ছে।
বিউফোর্ট দুর্গটি, আরবিতে ‘কালাত আল-শাকিফ’ নামে পরিচিত, দক্ষিণ লেবাননের একটি পাথুরে পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত প্রায় ৯০০ বছর পুরোনো একটি দুর্গ। এই দুর্গটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭০০ মিটার (২,৩০০ ফুট) উচ্চতায় অবস্থিত এবং এটি ১২শ শতকে ক্রুসেডারদের দ্বারা নির্মিত ছিল। এখানে থেকে লিটানি নদীর দিকে নজরদারি করা যায়।
পুরোনো ফরাসি ভাষায় ‘বিউফোর্ট’ শব্দের অর্থ ‘সুন্দর দুর্গ’। শতাব্দী পর শতাব্দী ধরে এই দুর্গের নিয়ন্ত্রণ বিভিন্ন শক্তির হাতে ছিল। ক্রুসেডারদের পর এটি বিভিন্ন আঞ্চলিক শক্তি এবং পরবর্তীতে অটোমান সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণে ছিল। উঁচু অবস্থানে থাকার কারণে এটি ঐতিহাসিকভাবে অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা এই স্থানকে তাদের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত করতেন। ১৯৮২ সালে লেবাননে আগ্রাসনের সময় ইসরায়েল দুর্গটি দখল করে নেয়। পরে দক্ষিণ লেবাননে নিরাপত্তা অঞ্চলের অংশ হিসেবে ইসরায়েলি বাহিনী ২০০০ সাল পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে।
বিউফোর্ট দুর্গের কৌশলগত গুরুত্ব সম্পর্কে জানানো হয়েছে যে, এটি লেবাননের পঞ্চম বৃহত্তম শহর নাবাতিয়াহর কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত। এই দুর্গ এবং এর আশপাশের রিজ এলাকা দক্ষিণ লেবাননের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবস্থান হিসেবে বিবেচিত। এতে দুর্গটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মাধ্যমে ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং উত্তর ইসরায়েলকে নজরদারির সুযোগ পাবে।
দক্ষিণ লেবাননের টাইর শহর থেকে আল-জাজিরার সাংবাদিক ওবাইদা হিত্তো জানিয়েছেন, দুর্গটির অবস্থান থেকে নাবাতিয়াহ শহরের আশপাশের প্রায় সব শহর ও গ্রাম পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। একইসাথে পশ্চিম বেকা উপত্যকা, অধিকৃত গোলান মালভূমি ও উত্তর গ্যালিলি অঞ্চল পর্যন্ত দেখা সম্ভব।
ওবাইদা হিত্তো আরও বলেছেন, নতুন এই পর্যবেক্ষণ সুবিধার কারণে স্থানীয় মানুষের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, ইসরায়েল তাদের সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করতে পারে।
বর্তমানে, দক্ষিণ লেবাননে কি ঘটছে তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে দেশটিতে ইসরায়েলি হামলায় ৩,৪১২ জন নিহত এবং ১০,২৬৯ জন আহত হয়েছেন। বিউফোর্ট দুর্গ দখলের পূর্বে কয়েক দিন ধরে দখলদার ইসরায়েল বিভিন্ন গ্রামে হামলা চালিয়েছে। আল-জাজিরার হিসাব অনুসারে, রবিবারই দক্ষিণ লেবাননে ৩৬টির বেশি হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩৫ জন আহত হয়েছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে, ফলে ইসরায়েল ইতোমধ্যে দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করেছে। বর্তমানে প্রায় ২ হাজার বর্গকিলোমিটার (৭৭০ বর্গমাইল) লেবানিজ ভূখণ্ড ইসরায়েলি বাহিনীর দখলে রয়েছে, যা দেশটির মোট আয়তনের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ।
গত সপ্তাহে, দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু লেবাননের ভেতরে আরও গভীর সামরিক অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। এটিকে গত ২৫ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রতিবেশী দেশটিতে ইসরায়েলির সবচেয়ে গভীর অনুপ্রবেশ হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে। রবিবার নেতানিয়াহু বলেন, তিনি আবারও লেবাননে সামরিক অভিযান সম্প্রসারণের নির্দেশ দিয়েছেন। গত সোমবার দক্ষিণ লেবাননের সাতটি গ্রামের বাসিন্দাদের জন্য জোরপূর্বক স্থানত্যাগের নির্দেশ জারি করা হয়। এসব গ্রামের মধ্যে রয়েছে হৌমিন আল-ফাউকা, বনাফৌল, আরব সালিম, রুমিন, আজ্জে, আরকে এবং জাবা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন