প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফ্রান্সজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুরবস্থার বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ফলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়া এসব ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নুর দেওয়া তথ্যমতে, ১ হাজার ২০০ জনকে আটক করা হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ১৫০ পুলিশ সদস্য। প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে সরকারি ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়েছে।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজের হিসাব অনুযায়ী, দেশজুড়ে ১১০টি মিছিলে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন। তবে শ্রমিক সংগঠন সিজিটি ও অন্যান্য আয়োজকদের দাবি, বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ লাখ। দিনের বেশির ভাগ মিছিল শান্তিপূর্ণ থাকলেও কিছু এলাকায় মুখোশধারী গোষ্ঠী পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।
রাজধানী প্যারিসের প্লাস দে লা রিপাবলিক এলাকায় বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ আতশবাজি, পাথর ও অন্যান্য বস্তু পুলিশের দিকে ছুড়ে মারতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। এ সময় বেশ কয়েকটি গাড়ি ও অন্যান্য বস্তুতে আগুন দেওয়া হয়। দোকানপাটে লুটপাটের পাশাপাশি ব্যাংক ও বিভিন্ন বিপণিবিতানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। তবে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, মূল মিছিলের বড় অংশ শান্তিপূর্ণ ছিল।
লিমোজ শহরে সিটি হলে আগুন দেওয়া হয়, যা ঐতিহাসিক ভবনটির ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। লিওঁ শহরে পর্যটন কার্যালয়ে আগুন লাগে, এবং শহরটির মেয়র গ্রেগরি দুসে ঘটনাটিকে নগরীর জন্য ‘বিপর্যয়’ বলে উল্লেখ করেছেন। মার্সেই শহরে বিক্ষোভকারীরা সিটি হলের প্রবেশপথে ঢুকে পড়েন। এ ছাড়া লিল, গ্রেনোবল, রেন, তুলুজ ও অন্যান্য শহরেও সহিংসতা ও ভাঙচুরের খবর পাওয়া গেছে।
ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু মন্তব্য করেন, সহিংসতার মাধ্যমে কেউ সরকারকে ভয় দেখিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচি চাপিয়ে দিতে পারবে না। তিনি জানান, শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিক্ষোভের ঘটনায় ১ হাজার ২০০ জনকে আটক করা হয়েছে এবং ১৫০ জনের বেশি পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ভাঙচুর, সরকারি ভবনে হামলা ও লুটপাটে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম এবং জনসেবার মান নিয়ে অসন্তোষ থেকেই এবারের বিক্ষোভ বিস্তৃত হয়েছে। গত মাসে প্যারিসের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি উপশহরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরু হয়। শিক্ষকের সংকট ও জরাজীর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া আন্দোলনে পরে শ্রমিক সংগঠন, শিক্ষক, কৃষক, পেনশনভোগী ও অন্যান্য গোষ্ঠী যোগ দেয়।
২০১৮ সালে জীবনযাত্রার ব্যয় ও সামাজিক বৈষম্যের প্রতিবাদে গড়ে ওঠা ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের সমর্থকেরাও এবারের বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেন। সিজিটি শ্রমিক সংগঠন মজুরি ও পেনশন বৃদ্ধি, পণ্যের দাম কমানো এবং জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বামপন্থী নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশো। তবে তিনি লুটপাটের বিরোধিতা করেছেন। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু তাঁর অবস্থানের সমালোচনা করে বলেন, সহিংসতার মাধ্যমে কোনো রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। বিক্ষোভের পরবর্তী পরিস্থিতি এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব নিয়ে দেশটিতে আলোচনা চলছে। তথ্যসূত্র: বিবিসি, রয়টার্স
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন