প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অনিতা কানওয়াল, যিনি একসময় বলিউডের একজন প্রভাবশালী অভিনেত্রী ছিলেন, বর্তমানে কাজের সন্ধানে রয়েছেন। তার হাতে যে সঞ্চয় রয়েছে, তা দিয়ে তিনি আর বড়জোর এক বছর চলতে পারবেন। কাজের প্রয়োজন শুধু অর্থের জন্য নয়, বরং মানসিক সুস্থতার জন্যও অপরিহার্য বলে মনে করেন তিনি। যদিও তার সন্তানরা আর্থিকভাবে সহায়তা করতে প্রস্তুত, তবুও তাদের ওপর নির্ভরশীল হতে চান না এই অভিনেত্রী।
সম্প্রতি ইউটিউব চ্যানেল বিকি লালওয়ানির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে অনিতা কানওয়াল তার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনা করেন। তিনি জানান, তার হাতে থাকা সঞ্চয় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে দৈনন্দিন খরচ সামলানো তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
অভিনেত্রী বলেন, “আমাকে আয় করতে হবে। হয়তো আরও ১০ বছর বাঁচব, কিংবা ২০ বছর। এই সময়টাতে আমি কী করব? আমি একটি সুন্দর বাড়িতে থাকি। বাড়িটির কিছু অংশ আমার বাবা-মা তৈরি করেছিলেন। বাকি অংশের জন্য ঋণ নিয়েছিলাম, যা পরে শোধ করেছি। এটিই আমার একমাত্র সম্পদ। কিছু সঞ্চয় আছে, তবে জানি, এক বছরের মধ্যেই তা শেষ হয়ে যাবে। তাই আমার কাজ প্রয়োজন। আমার তহবিল ফুরিয়ে আসছে।”
অনিতা জানান, তার সন্তানরা তাকে নিয়ে প্রায়ই উদ্বিগ্ন থাকেন। তারা আর্থিকভাবে পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত। কিন্তু তিনি চান না সন্তানদের ওপর নির্ভর করে জীবন কাটাতে। বরং আগের মতোই সন্তানদের উপহার দেওয়ার এবং প্রয়োজনের সময় অন্যদের সাহায্য করার সামর্থ্য ধরে রাখতে চান।
তিনি বলেন, “আমি কখনোই এমন অবস্থায় পৌঁছাতে চাই না, যখন সন্তানদের ওপর নির্ভর করতে হবে কিংবা তাদের কাছে কিছু চাইতে হবে। আমি সব সময়ের মতো তাদের দিয়ে যেতে চাই। তারা মাঝেমধ্যে আমাকে জিজ্ঞেস করে, ‘মা, তুমি এখনো আমাদের জন্মদিনে উপহার দাও কেন?’ তারা এমন কথা বললে আমার কষ্ট হয়। কারণ, উপহার দিতে আমার ভালো লাগে। আমি এমন অবস্থানে থাকতে চাই, যেন সেটা চালিয়ে যেতে পারি।”
অভিনেত্রীর ভাষ্য, তার দাদা ছোটবেলায় তাকে শিখিয়েছিলেন, মানুষের কাছে সাহায্য চাওয়ার পরিবর্তে অন্যদের সাহায্য করার চেষ্টা করা উচিত। তার দাদা হিমাচল প্রদেশের একজন কৃষক ছিলেন। সেই শিক্ষা এখনও তার মনে রয়েছে।
খরচের বিষয়ে সতর্ক থাকলেও মূল্যবৃদ্ধির কারণে হিসাব মেলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে। নিজের পাশাপাশি যারা তার জন্য কাজ করেন, তাদের দায়িত্বও পালন করতে হয়।
কাজে ফেরার বিষয়ে অনিতা বলেন, তিনি কাজের জন্য মরিয়া নন। তবে তিনি চান তার অভিজ্ঞতা ও প্রতিভার যথাযথ মূল্যায়ন হোক। তার অভিযোগ, বিনোদনজগতের অনেক তরুণই তার আগের কাজ সম্পর্কে জানেন না। আবার কখনও কখনও তার কাছে এমন চরিত্রের প্রস্তাব আসে, যেগুলো তার চেয়ে অনেক কম বয়সি নারীদের উপযোগী।
অডিশন দেওয়ার পর এবং কাস্টিং পরিচালকদের সঙ্গে দেখা করার পরও এখন পর্যন্ত বড় কোনো অভিনয়ের প্রস্তাব পাননি তিনি। তবে আর্থিক সংকটের মধ্যেও নিজের আত্মসম্মান ও স্বাবলম্বিতা ধরে রেখে কাজ চালিয়ে যেতে চান এই অভিনেত্রী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন