প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
এশিয়ান গেমসে স্বর্ণপদকের লড়াইয়ে ভারত শ্রীলঙ্কাকে গুঁড়িয়ে দিয়ে আবারও চ্যাম্পিয়ন হলো। নারী ক্রিকেটে হারমানপ্রিত কৌরের নেতৃত্বে ভারত ১৪৭ রানের বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেছে। এশিয়া কাপের ফাইনালের পর এশিয়ান গেমসে এটি ভারতের আরেকটি দাপুটে জয়।
জাপানের নিশিনে টস জিতে ভারত প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় এবং ২০ ওভারে ২১৬ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে। শ্রীলঙ্কা এই লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে মাত্র ৬৯ রানে অলআউট হয়ে যায়।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ভারতের এটি সবচেয়ে বড় জয়। এর আগে ২০১৮ সালে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ১৪২ রানের জয় ছিল তাদের সর্বোচ্চ ব্যবধানের জয়। আট বছরের বেশি সময় পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেই রেকর্ড নতুন করে লিখল ভারত।
এশিয়ান গেমসে এটি ভারতের প্রথম স্বর্ণপদক। ২০২৩ সালের হাংজু এশিয়ান গেমসেও নারী ক্রিকেটে স্বর্ণ জিতেছিল ভারত।
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কার বোলারদের ওপর শুরু থেকেই চড়াও হন শেফালি ভার্মা ও স্মৃতি মান্ধানা। উদ্বোধনী জুটিতে তারা মাত্র ১০ ওভারে ৯৯ রান যোগ করেন।
এই জুটির সুবাদে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রথম জুটি হিসেবে ৪ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন মান্ধানা ও শেফালি। ইনিংস শেষে তাদের জুটি থেকে এসেছে মোট ৪ হাজার ৮০ রান।
শেফালি ২৯ বলে ৪৮ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন, যেখানে তার ব্যাট থেকে আসে ৩টি চার ও ৩টি ছক্কা। এই ইনিংসের মাধ্যমে ২০২৬ সালে তার রান দাঁড়ায় ৮৬৩ এক পঞ্জিকাবর্ষে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রানের নতুন রেকর্ড।
শেফালি দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক লরা উলভার্টকে পেছনে ফেলেছেন। চলতি বছর উলভার্টের রান ৮২৪। ৮০০ রান নিয়ে এরপর রয়েছেন হংকংয়ের নাতাশা মাইলস।
শেফালি ফেরার পরও ভারতীয় ইনিংসের গতি কমতে দেননি মান্ধানা। আউট হওয়ার আগে ৫ চার ও ৭ ছক্কায় মাত্র ৪৫ বলে ৭৯ রান করেন বাঁহাতি ওপেনার।
এই ইনিংসের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম নারী ক্রিকেটার হিসেবে ১১ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন মান্ধানা।
শেষদিকে ঝড় তোলেন রিচা ঘোষ। ভারতি ফুলমালির সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে মাত্র ১৯ বলে ৫৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন ভারতের উইকেটকিপার-ব্যাটার। রিচা ২২ বলে ৪৯ রানে অপরাজিত থাকেন, তার ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৩টি ছক্কা।
২১৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শ্রীলঙ্কা শুরু থেকেই চাপে ছিল। পাওয়ার প্লেতে দুই উইকেট হারানোর পর সপ্তম ওভার থেকে তাদের ব্যাটিং পুরোপুরি ভেঙে পড়ে।
একপর্যায়ে ২ উইকেটে ৪৩ রান থেকে শ্রীলঙ্কা মাত্র ৫২ রানেই ৭ উইকেট হারায়। এরপর তারা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ৬৯ রানে অলআউট হয় লঙ্কানরা।
অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু ২১ বলে ২৯ রান করে দলের সর্বোচ্চ স্কোরার। এছাড়া কৌশানি নুথিয়াঙ্গানা ১৪ ও কাভিশা দিলহারি ১১ রান করেন। আর কোনো ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি।
বল হাতেও দারুণ ছিলেন শেফালি। ২ ওভারে মাত্র ৩ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। ভারতের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার দিপ্তি শর্মা ৪ ওভারে এক মেডেনসহ মাত্র ৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। শ্রেয়াঙ্কা পাতিল ও শ্রী চারানির শিকার ২টি করে উইকেট।
ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে এশিয়ান গেমসের নারী ক্রিকেটে টানা দ্বিতীয়বারের মতো স্বর্ণপদক নিশ্চিত করল ভারত।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন