প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মেগা প্রকল্প তৈরি করে মানুষের মধ্যে উন্নয়নের একটি ধারণা সৃষ্টি করার মাধ্যমে মেগা লুটের উদ্দেশ্যে সরকার সম্পূর্ণরূপে অনাগ্রহী। ফ্যাসিস্ট আমলে গৃহীত কিছু মেগা প্রকল্পকে এখন বন্ধ করলে বড় ধরনের সমস্যা ও অপচয় হতে পারে এবং সেগুলোকে রেশনালাইজড করার জন্য বাছাই করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি।
তিনি বলেন, 'সরকার মেগা প্রকল্পের ব্যাপারে রক্ষণশীল। আমরা মেগা প্রকল্পের পরিবর্তে মানবসম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্রিক ও প্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের হার খুব হতাশাজনক। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সরকার সচেষ্ট।'
শনিবার (২৭ জুন) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (এফডিসি) বাজেটের সুফল পেতে অর্থের যোগান ও বাস্তবায়ন দক্ষতা নিয়ে অনুষ্ঠিত এক ছায়া সংসদে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি প্রধান অতিথির বক্তৃতা দেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।
জোনায়েদ সাকি বলেন, 'করের পরিধি বাড়ানোর জন্য খুদে দোকানিরা যাতে ন্যূনতম কর দিতে পারে, সেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের উদ্দেশ্য হল, হয়রানির উদ্দেশ্যে নয়, ন্যায়ের ভিত্তিতে কর আদায় করা। সাধারণ মানুষকে মূল্যস্ফীতির অভিঘাত থেকে রক্ষা করার জন্য ৬০ টি নিত্যপণ্যের ওপর কর হ্রাস করা হয়েছে। করের পরিধি বৃদ্ধি করতে গিয়ে কেউ হয়রানি খাবে না।'
সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, 'আওয়ামী সরকারের ভুলনীতি, অনিয়ম, দুর্নীতির কারণে দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়েছিল। বর্তমান সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে ভঙ্গুর পরিস্থিতি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। সেই সময় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও সুশাসনের অভাবের কারণে বাজেটের প্রত্যাশিত সুফল জনগণ পায়নি। বাজেটের সুফল পেতে অর্থের যোগান যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই এর বাস্তবায়ন দক্ষতা আসলেই জরুরি। আওয়ামী সরকারের সময় বাজেটের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার না করা হয়েছে, যা অবকাঠামোগত উন্নয়নের নামে ব্যাপক দুর্নীতি এবং অনিয়ম সৃষ্টি করেছে। প্রতিটি প্রকল্পই অত্যধিক মূল্যে হয়। মেগা প্রকল্পের আড়ালে হয়েছে মেগা চুরি। এমনকি ছোট প্রকল্পগুলিতেও চুরি মেগা প্রকল্পের চুরিকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল। রাজনৈতিক কারণে দুর্নীতির লক্ষ্যে বিদ্যুত ও জ্বালানি খাত কিছুমাত্র কোম্পানির কাছে ইজারা দেয়া হয়েছে।'
তিনি বলেন, 'সরকার বলছে চলমান তারল্য সংকট মোকাবেলায় টাকা ছাপানোর প্রয়োজন নেই। কিন্তু আমরা দেখছি, টাকা ছাপিয়ে ইসলামী ব্যাংককে ৯ হাজার কোটি টাকা ধার প্রদান করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ভবিষ্যতে যদি আরো টাকা ছাপিয়ে এই সংকট মোকাবেলা করা হয়, তাহলে মূল্যস্ফীতি আরো বাড়বে। বৈদেশিক বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য সরকারকে শিল্প কলকারখানায় গ্যাস এবং বিদ্যুতের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।'
তিনি আরো বলেন, 'সরকারের নীতি সহায়তার মাধ্যমে গ্যাস, বিদ্যুত ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান মুখ থুবরে পড়বে। আওয়ামী সরকারের সময় গ্যাস প্রদানের প্রতিশ্রুতির পরিপ্রেক্ষিতে উদ্যোক্তারা দেশি ও বিদেশি তহবিল নিয়ে কারখানা স্থাপন করলেও এখনো পর্যন্ত গ্যাস সংযোগ পায়নি। ৫৫০ টি ছোট, মাঝারি ও বড় শিল্প কারখানা গ্যাস প্রাপ্তির সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলেও গ্যাস পাচ্ছে না। এ কারণে ২৩ হাজার কোটি টাকার অলস বিনিয়োগ পড়ে আছে। অথচ মাস গেলে সুদ পরিশোধ করতে হচ্ছে।'
কিরণ বলেন, 'এবার বাজেটে চাল, ডাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, ভোজ্যতেল, চিনি, লবণের মতো ৬০ টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর উৎস কর কমানোর মাধ্যমে জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে অন্যদিকে মুদি দোকান, কনফেকশনারীসহ তৃণমূল পর্যায়ের ১৬ টি ব্যবসায়িক খাতে ভ্যাট আরোপ এবং জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি আবারও জনগণকে অস্বস্তিতে ফেলবে। ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের ওপর নতুন করের বোঝা ভোক্তাদের উপরই পড়বে। ফলে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পাবে।'
“জাতীয় বাজেটের সুফল পেতে অর্থের যোগান অপেক্ষা বাস্তবায়ন দক্ষতা বেশি জরুরি” এই শিরোনামের ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের বক্তাগণ প্রাইমএশিয়া ইউনিভার্সিটিকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতার বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, ড. এস এম মোর্শেদ, ইআরএফের প্রেসিডেন্ট ও সিনিয়র সাংবাদিক দৌলত আক্তার মালা, কালের কণ্ঠের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক মোহাম্মদ ফারুক আহাম্মদ (ফারুক মেহেদী) এবং চ্যানেল আইয়ের বিশেষ প্রতিনিধি রিজভী নেওয়াজ। প্রতিযোগিতার সমাপ্তিতে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট এবং সনদপত্র প্রদান করা হয়। এ ছায়া সংসদটি আয়োজন করেছে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন