প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, দেশে চলমান লোডশেডিং পরিস্থিতিতে আপাতত অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই। বুধবার (১৩ আগস্ট) সিপিডি আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা: তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার এবং টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের পথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেছেন।
মন্ত্রী বলেন, ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার কারণে চলমান সংকট সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও জানান, ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) মেরামত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আপাতত লোডশেডিং ব্যবস্থাপনা ও অপেক্ষা করা ছাড়া এখন কোনো উপায় নেই।
তিনি বলেন, এইটুকুই বলতে চাই, আমরা কাজ করছি। এই ক্রাইসিসের সময় আসলে এখন আমার কিছু করার নাই। কারণ, আমি গ্যাসও উত্তোলন করতে পারবো না এবং এফএসআরইউ ছাড়া যেটা আছে, সেটাও নামাতে পারবো না।
মন্ত্রী বর্তমান ব্যবস্থাপনার কৌশল ব্যাখ্যা করে বলেন, বর্তমান প্রাতিষ্ঠানিক সংকটে সরাসরি কিছু করার সুযোগ সীমাবদ্ধ। কারণ, নতুন করে হঠাৎ গ্যাস উত্তোলন করা যেমন সম্ভব নয়, ঠিক তেমনই এফএসআরইউ সচল না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান গ্যাস খালাসして জাতীয় গ্রিডে দেওয়াও সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, বিদেশি প্রকৌশলীরা যতক্ষণ পর্যন্ত এফএসআরইউ মেরামত শেষ না করবেন, ততক্ষণ অপেক্ষা করা ছাড়া কোনো গতি নেই। তিনি বলেন, এখন শুধু দিন গোনা ছাড়া ইঞ্জিনিয়াররা কাজ করছেন এফএসআরইউতে, আমি অন্য কিছু করতে পারছি না। আমি কিছু ম্যানেজমেন্ট করার চেষ্টা করছি, যেন কম লোডশেডিং হয় এবং আমি ইন্ডাস্ট্রিতে গ্যাসটি দিতে পারি।
জ্বালানি মন্ত্রী আরও বলেন, এলএনজি টার্মিনাল মেরামতে যুক্তরাজ্য ও সিঙ্গাপুরের প্রকৌশলীরা কাজ করছেন। কিন্তু, মেরামত শেষে নতুন দুটি বয়লার একসঙ্গে চালু করতে হবে। কারিগরি সমন্বয়ের জন্য পুরো সিস্টেমটি ৭২ ঘণ্টা বা তিন দিন বন্ধ রাখতে হবে, যার প্রভাবে দেশে গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দেবে।
তিনি বলেন, সরকার নতুন আরও তিনটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা করছে ২০২৯ সালের মধ্যে। এছাড়া শিল্পে গ্যাস সংকট কমানোর জন্য বিকল্প উপায় খোঁজা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় ভোলা থেকে কনটেইনার ট্রাকে গ্যাস কারখানায় পৌঁছানোর জন্য একটি কোম্পানিকে ৩০টি ট্রাক চলাচলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সরকার সরাসরি কনটেইনারের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহের সুবিধা তৈরি করতে মালয়েশিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করছে। মন্ত্রী এ সময় বলেন, তেল নিয়ে গুজব ছড়ানোর কারণে সংকট বাড়ে। তিনি আরও জানান, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মেনে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যেন তেল আমদানি করতে পারে, সে জন্য একটি নতুন নীতিমালা তৈরি হচ্ছে।
এদিকে সৌরবিদ্যুৎকে উৎসাহিত করতে সোলার ব্যাটারি ও ইনভার্টারের আমদানি শুল্ক কমিয়ে মাত্র ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এই ক্ষেত্রে পাঁচ বছরের ট্যাক্স হলিডে (করছাড়) সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
আলোচনা সভায় সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন সভাপতিত্ব করেন এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সিনিয়র গবেষণা সহযোগী ফখরুদ্দিন আল কবির। বক্তব্য দেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানা, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সাকিব বিন আমিন প্রমুখ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন