প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আগামী ০২ জুলাই ২০২৬ তারিখ থেকে দেশে একযোগে শুরু হতে যাচ্ছে এইচএসসি (বিএম/ভোকেশনাল) ও আলিম পরীক্ষা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫টি পরীক্ষার্থীদের জন্য বরিশাল নগরীর ঐতিহ্যবাহী পরেশ স্কুল মাঠে মাসব্যাপী চলমান মেলা চরম বিপাকে ফেলছে।
বিশেষ করে বরিশাল সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং আলেকান্দা সরকারি কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্র মেলার পাশে অবস্থিত। পরীক্ষার পূর্ব মুহূর্তে মেলা বন্ধ করার কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণে বরিশাল জেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষ, অভিভাবক ও সচেতন মহলে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় তথ্য থেকে জানা গেছে, মেলা প্রাঙ্গণের তীব্র শব্দদূষণ, মাইকের উচ্ছ্বাসিত আওয়াজ ও দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়ের কারণে পরীক্ষার্থীদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মেলা চলাকালীন কোলাহলের মধ্যে পরীক্ষা শুরু হলে শিক্ষার্থীরা কীভাবে শান্ত পরিবেশে পরীক্ষা দেবেন তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকরা।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পরেশ স্কুল মাঠের চারপাশে বেশ কয়েকটি আবাসিক এলাকা রয়েছে। এই এলাকার অসংখ্য এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার্থী মেলা থেকে আসা উঁচু শব্দ ও গভীর রাতের আওয়াজের কারণে ঘরে বসে শান্তিতে পড়াশোনা করতে পারছেন না। এর ফলে শেষ মুহূর্তের চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে তারা চরম মানসিক ও পরিবেশগত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
জেলা প্রশাসনের এই অবহেলা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ভুক্তভোগী অভিভাবক ও শিক্ষকরা। বরিশাল দোহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক শাহিদ আক্তার সাথী তাঁর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "জেলা প্রশাসক এত ক্ষমতা কোথায় পেলেন? নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে এমন এক মাসের জন্য স্কুল মাঠ দখল করে মেলার অনুমোদন দিয়েছেন। এমন সময়ে, যখন শিক্ষার্থীদের জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা আসন্ন, তিনি মেলা বন্ধ করছেন না। এটাকে ক্ষমতার স্পষ্ট অপব্যবহার ছাড়া আর কিছু বলা যায় না।"
একই সুরে মেলা-সংলগ্ন স্কুলের একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "মেলাটি ইতিমধ্যে মাসব্যাপী চলছে। আমরা জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে বিনীত অনুরোধ করছি, শিক্ষার্থীদের সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা দেওয়ার স্বার্থে অবিলম্বে এই মেলা বন্ধের কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য।"
সাধারণ মানুষের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা কেন্দ্রের কাছাকাছি ও আবাসিক এলাকার মধ্যে মেলা বা অন্য কোনো বাণিজ্যিক ইভেন্টের আয়োজন করা সম্পূর্ণ নীতিবিরুদ্ধ। বরিশাল সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং আলেকান্দা সরকারি কলেজের মতো বড় কেন্দ্রের পাশে চলমান মেলার কারণে পরীক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছে। পরীক্ষা শুরুর দিনগুলোতে মাঠ খালি করার কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় ক্ষোভ বেড়ে চলেছে।
এ ব্যাপারে বরিশাল জেলা প্রশাসক (ডিসি) খায়রুল আলম সুমনের হোয়াটসঅ্যাপে একটি লিখিত বার্তা পাঠানো হলেও, প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য বা সাড়া পাওয়া যায়নি।
পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে অবিলম্বে এই মেলা বন্ধ করে মাঠটি পরীক্ষা নেওয়ার জন্য উপযোগী করার দাবি উঠেছে। বরিশালের সর্বস্তরের নাগরিকের মধ্যে এ বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন