প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ও বেনজির ভুট্টোর মতো দেশত্যাগে বাধ্য করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির জাতীয় পরিষদের বিরোধীদলীয় নেতা মাহমুদ খান আচাকজাই।
শুক্রবার পেশোয়ার হাইকোর্টে (পিএইচসি) অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ উত্থাপন করেন। খবর দ্য ডন অনলাইনের।
আচাকজাই বলেন, অতীতে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ও বেনজির ভুট্টো যেভাবে সমঝোতার মাধ্যমে স্বেচ্ছানির্বাসনে গিয়েছিলেন, ঠিক তেমন পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে ইমরান খানের ক্ষেত্রেও।
তিনি আরও বলেন, “বিশ্বের কোথাও একজন বন্দিকে সাক্ষাতের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয় না।” এ সময় তিনি বিতর্কিত সংশোধনী প্রত্যাহার, পার্লামেন্টকে কার্যকর ক্ষমতা দেওয়া এবং স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের দাবি জানান।
আচাকজাইয়ের মতে, পার্লামেন্টকে ক্ষমতায়ন করা ছাড়া কোনো সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। খাইবার পাখতুনখোয়ার (কেপি) মুখ্যমন্ত্রী ও অন্যান্য আইনপ্রণেতাদের অবস্থান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী কোথায় আছেন, তা প্রকাশের জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ তথ্য জানার অধিকার তাদের রয়েছে এবং এটি সাংবিধানিক অধিকার।
তিনি বলেন, “আমরা খাইবার পাখতুনখোয়ার জনগণের পাশে আছি। এ প্রদেশের খনিজ সম্পদের ওপর প্রথম অধিকার এখানকার মানুষের। রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক, দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।” দেশ টিকে থাকলে সবাই নিরাপদ থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আচাকজাইয়ের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তেহরিক-ই-তাহাফুজ-ই-আইন-ই-পাকিস্তানের (টিটিএপি) নেতারা। এছাড়া বেলুচিস্তান ন্যাশনাল পার্টি-মেঙ্গল (বিএনপি-এম) প্রধান সরদার আখতার মেঙ্গল এবং সিনেটে বিরোধীদলীয় নেতা আল্লামা রাজা নাসির আব্বাসও উপস্থিত ছিলেন।
আচাকজাই বলেন, তারা সব বিরোধী দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং শিগগিরই একটি সর্বদলীয় সম্মেলন আহ্বান করবেন।
সম্মেলনে সরদার আখতার মেঙ্গল বলেন, যারা নিজেদের সংবিধানের প্রণেতা বলে দাবি করেন, তারাই সংবিধান পদদলিত করছেন। সন্ত্রাসবাদের কারণ দেখিয়ে খাইবার পাখতুনখোয়ায় গভর্নরের শাসন জারির সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন বাতিল চেয়ে আদালতে বিরোধীরা
খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা ও গভর্নরের শাসন জারির সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে শুক্রবার পেশোয়ার হাইকোর্টে আবেদন করেছে টিটিএপি। এসব পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক ও বেআইনি ঘোষণা করার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছেন জোটের নেতারা।
আবেদনে বলা হয়, গত ১১ অক্টোবর পাকিস্তানের সংবিধানের ২৩২(১) ও ২৩৪ অনুচ্ছেদের আওতায় জারি করা জরুরি অবস্থার ঘোষণা অসাংবিধানিক এবং আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত। এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংবিধানে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করা হয়নি, অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সংবিধানপ্রদত্ত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে বলে আবেদনকারীদের দাবি।
আবেদনকারীরা খাইবার পাখতুনখোয়া প্রাদেশিক পরিষদের আইন প্রণয়নের ক্ষমতা পার্লামেন্টে স্থানান্তরের উদ্যোগ এবং নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী ও প্রাদেশিক মন্ত্রিসভাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তকেও চ্যালেঞ্জ করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন