প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে সবচেয়ে কঠোর বোমা হামলাগুলোর একটি চালানোর পরিকল্পনা করছে। একাধিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলা সম্ভবত সপ্তাহান্তে চালানো হতে পারে, তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং শান্তি আলোচনা শুরু হলেও তা শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যায়। এর পর গত মাসের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ফের হামলা শুরু করে। ইরান মার্কিন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে। দুই সপ্তাহের টানা বিমান হামলার পর গত সপ্তাহে হামলা হঠাৎ স্থগিত করে মার্কিন বাহিনী।
তবে সিবিএস নিউজ জানাচ্ছে, এখন ওয়াশিংটন নতুন করে ইরানে বড় হামলার পরিকল্পনা করছে। একাধিক মার্কিন সূত্রের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, তেল শোধনাগারসহ গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক হামলা চালানোর আইডিয়া নিয়ে আলোচনা করছে।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, বৈশ্বিক ও মার্কিন অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাবের কথা মাথায় রেখে সোমবার আর্থিক বাজার খোলার আগে অভিযান সম্পন্ন করার বিষয়ে আলোচনা হয়। তবে হামলা কখন শেষ হবে সে সম্পর্কে এখনও কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
মার্কিন সূত্র সমূহ বলছে, পরিকল্পনার বিষয়ে ইসরায়েলকে একবারে অবহিত করা হয়েছে এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমন্বয় করছে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও হামলাকে চূড়ান্ত নির্দেশ দেননি।
যদি যৌথ অভিযান শুরু হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির পর ইসরাইল আবারও সরাসরি সামরিক অভিযানে ফিরে আসবে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত জুলাইয়ে দফতরের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু হওয়ার পরও ইরান ইসরাইলে হামলা চালায়নি।
এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে বলেন, পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে অংশ নেওয়ার জন্য তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করা হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার ক্যাম্প ডেভিডে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার বৈঠকে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় হোয়াইট হাউসের রাজনৈতিক বিষয়ক কয়েকজন উপদেষ্টা এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করেন বলেও জানানো হয়।
সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের ওপর খুব কঠোর আঘাত হানব। এক সময় তারা বলবে, আমরা আর সহ্য করতে পারছি না।’ কূটনৈতিক উদ্যোগ পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু জিততে চাই।’
সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য হামলায় বিদ্যুৎকেন্দ্র, তেল শোধনাগারসহ ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য হতে পারে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেমন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র জিতবে এবং তার প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে পারবে না।’
পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল জানান, প্রেসিডেন্ট চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু নিয়ে প্রতিরক্ষা দফতর কোনো মন্তব্য করবে না। তবে তিনি এই তথ্যও জানান, ‘প্রতিরক্ষা বিভাগ প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা কার্যকর করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।’
এক সাবেক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে বলেছেন, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলার উদ্দেশ্য হবে দেশটির সামরিক বাহিনীর সেবা প্রদানের সক্ষমতা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার কার্যকারিতা দুর্বল করা।
গত সপ্তাহের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বৈঠকে নেতানিয়াহু যুদ্ধসংক্রান্ত তিনটি সম্ভাব্য কৌশল তুলে ধরেন। এর মধ্যে স্থলপথে রসদ সরবরাহের রুটে সামরিক হামলার প্রস্তাব ছিল, বলে এক জ্যেষ্ঠ ইসরাইলি কর্মকর্তা জানান। পরে তিনি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গেও বৈঠক করেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে এমন কয়েকটি সেতুতে হামলা চালিয়েছে, যেগুলো সামরিক ও বেসামরিক উভয় কাজেই ব্যবহৃত হচ্ছিল। এছাড়া শুক্রবার তেহরানের বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়েও উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হয়েছে, যদিও তখনকার মতো সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছিলেন, হরমুজ প্রণালীতে কোনো জাহাজে হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের একটি সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করা হবে। যদিও পরে এ ধরনের হামলা চালানো হয়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন