প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করেছেন। সদ্যসাবেক রাষ্ট্রপতি তার পদত্যাগপত্রে যেসব শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন, এর মধ্যে ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ নামের একটি জটিল রোগের কথা এসেছে যা আলোচনা সৃষ্টি করেছে। তিনি পদত্যাগপত্রে লেখেন, আমি অত্যন্ত গুরুতর অসুস্থ। আমার হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারিও হয়েছে। সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ‘অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ নামক রোগটি শনাক্ত হয়েছে। তিনি এই শব্দগুলি উল্লেখ করেন, “এই রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই।” অটোনমিক নিউরোপ্যাথি হলো একটি স্নায়ুরোগ, যেখানে শরীরের স্বয়ংক্রিয় কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ুগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়। এর ফলে হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ, হজম, মূত্রথলির কার্যকারিতা, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণসহ যৌনস্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। দাঁড়িয়ে থাকার সময় হালকা মাথা ব্যথা অথবা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই যদি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণহীন থাকে, তবে এটি রোগটির প্রধান কারণ। এছাড়া কিছু অটোইমিউন রোগ, স্নায়বিক সমস্যা, সংক্রমণ কিংবা কিছু নির্দিষ্ট ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও এ রোগের কারণ হতে পারে। একই সঙ্গে যদি পারিবারিক ইতিহাসে এই রোগ থাকে, তবে তা হওয়া সম্ভব। রোগের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে: ১. দাঁড়ানোর সময় হালকা মাথা ব্যথা বা অজ্ঞান হয়ে হওয়া (অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশন) ২. কোষ্ঠকাঠিন্য অথবা ডায়রিয়া ৩. মূত্রাশয়ের কর্মহীনতা, যার মধ্যে প্রস্রাব শুরু বা বন্ধ করতে অসুবিধার সৃষ্টি হতে পারে ৪. যৌন কর্মহীনতা, বিশেষ করে পুরুষত্বহীনতা অথবা প্রচণ্ড উত্তেজনা অর্জনে অসুবিধা ৫. গিলতে অসুবিধা ৬. গ্যাস্ট্রোপেরেসিস, যা পেট খালি হতে বিলম্ব ঘটাতে পারে ৭. অস্বাভাবিক ঘাম অথবা তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ না থাকা ৮. শুকনো চোখ এবং মুখ ৯. বুক ধড়ফড় করা ১০. সমন্বয় এবং ভারসাম্য বজায় রাখতে অসুবিধা হওয়া অটোনমিক নিউরোপ্যাথির স্থায়ী কোনো চিকিৎসা নেই। চিকিৎসকদের মূল লক্ষ্য হলো রোগের কারণকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং উপসর্গগুলি কমিয়ে রোগীর বিশেষ জীবনযাপন নিশ্চিত করা। ডায়াবেটিসজনিত ক্ষেত্রে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হল রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা। পাশাপাশি, প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ, খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তন, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণের ওপর বিশেষজ্ঞরা জোর দেয়। চিকিৎসকের মতে, যদি সময়মতো রোগ শনাক্ত করা হয় এবং সঠিক চিকিৎসা নেওয়া হয়, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উপসর্গগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। কিন্তু গুরুতর অবস্থায় বারবার অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা রক্তচাপের বড় ধরনের ওঠানামা রোগীর দৈনন্দিন জীবন এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন