প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : পূর্ব জার্মানির সাবেক কমিউনিস্ট একটি রাজ্যে রোববার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক নির্বাচন। কট্টর ডানপন্থি অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) নির্বাচনে সহজেই জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। দলটি প্রথমবারের মতো রাজ্য সরকার গঠনের নেতৃত্ব দেওয়ার লক্ষ্য স্থির করেছে।
এএফডি এককভাবে সরকার পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ভোট পাবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। তবে স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যে ভোটে শীর্ষে থাকলে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎসের ওপর চাপ বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে অভিবাসনবিরোধী দলটির অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
বার্লিন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানায়।
কয়েক মাস ধরে রাজ্যটিতে জনমত জরিপে এএফডির সমর্থন ৪০ শতাংশ বা তার বেশি রয়েছে। দলের প্রধান প্রার্থী উলরিখ জিগমুন্ড। ৩৫ বছর বয়সী এই জনপ্রিয় নেতা প্রচার সমাবেশে রকস্টারের মতো সংবর্ধনা পান। টিকটকে তার অনুসারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য।
জিগমুন্ডের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে অনিয়মিত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ‘পুনঃঅভিবাসন ও বহিষ্কার’ অভিযান, সরকারি স্কুলে এলজিবিটিকিউ গৌরবের রংধনু পতাকা নিষিদ্ধ করা এবং নতুন বায়ুবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বন্ধ করা।
মস্কোপন্থি এই দলটি কমিউনিস্ট পূর্ব জার্মানির হারিয়ে যাওয়া দিনের প্রতি একধরণের নস্টালজিয়া এবং ১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীর পতনের কয়েক দশক পরেও পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পদের ব্যবধান নিয়ে অসন্তোষকে কাজে লাগিয়েছে।
রোববার জিগমুন্ড ‘ইতিহাস গড়ার’ অঙ্গীকার করেছেন। তিনি ২১ লাখ মানুষের এই ছোট রাজ্য থেকে রাজনৈতিক বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়ে তার প্রতিষ্ঠাবিরোধী দলকে ২০২৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ের পথে এগিয়ে নিতে চান।
বর্তমান রাজ্যপ্রধান ৪৭ বছর বয়সী স্বেন শুলৎসে। তিনি মের্ৎসের মধ্য-ডানপন্থি ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) দলের নেতা এবং একাধিক দলের জোট সরকার পরিচালনা করছেন। তিনি মহাসড়কের পাশে বড় বড় বিলবোর্ড লাগিয়েছেন। সেখানে ভোটারদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, ‘কট্টর ডানপন্থিরা খাদে নিয়ে যায়।’
এএফডির অনেক ভোটার বড় ধরনের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা করলেও দলটির বিজয়ের সম্ভাবনা জার্মানির বড় অংশকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও হলোকাস্টের অন্ধকার ইতিহাসের দায় কাটিয়ে উঠতে জার্মানি দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করে আসছে।
জার্মানির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা বিএফভি এএফডি’র রাজ্য শাখাকে ‘কট্টর ডানপন্থি’ সংগঠন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে।
বিএফভির সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্যাক্সনি-আনহাল্টের এএফডির অনেক রাজনীতিক ‘অভিবাসীদের হেয় করে এমন ভাষা ব্যবহার করেন।’ তারা নিয়মিত মুসলিম শরণার্থীদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করেন। সম্মিলিতভাবে তাদের এ ধরণের অবমাননা ‘মানবিক মর্যাদার নীতি’ লঙ্ঘন করে।
এএফডির সঙ্গে সহযোগিতা না করার ‘ফায়ারওয়াল’ নীতি অর্থাৎ এএফডির সঙ্গে অন্য প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা বা জোট না করার নীতি এখন পর্যন্ত সব প্রধান দলই বজায় রেখেছে। তবে ক্ষুদ্র বিএসডব্লিউ দলটি—যারা অর্থনীতির ক্ষেত্রে বামপন্থি হলেও অভিবাসনের বিষয়ে ডানদিকে ঝুঁকে আছে—এখন এএফডিকে সরকার গঠনে সমর্থন দেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে।
মের্ৎস প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, অর্থনীতির স্থবিরতা কাটিয়ে এবং অনিয়মিত অভিবাসন সীমিত করে এএফডির এক দশকের উত্থান থামাবেন। তবে এখন পর্যন্ত তাতে সাফল্য আসেনি। সাবেক প্রান্তিক দলটি জাতীয় পর্যায়ের জনমত জরিপেও নিয়মিত শীর্ষে রয়েছে।
রুর বিশ্ববিদ্যালয় বোখুমের অধ্যাপক অলিভার লেমবকে বলেন, ‘এএফডি যদি স্যাক্সনি-আনহাল্টের নির্বাচনে জয়ী হয়, তাহলে তা ফ্রিডরিশ মের্ৎসের ব্যক্তিগত পরাজয় হিসেবে বিবেচিত হবে।’
তিনি বলেন, ‘তার লক্ষ্য ছিল এএফডির ভোটের হার অর্ধেকে নামিয়ে আনা। এর পরিবর্তে এএফডি সিডিইউকে ছাড়িয়ে সবচেয়ে শক্তিশালী দল হয়েছে—এমনকি ফেডারেল পর্যায়েও। এই ফলাফলের ব্যক্তিগত দায় তার ওপরই বর্তায়।’
লেমবকে বলেন, রাজ্য নির্বাচনে জয় এটাই প্রমাণ করবে যে ‘ভোটের মাঠে ফায়ারওয়াল কৌশল ব্যর্থ হয়েছে। পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দিতে হবে, মের্ৎস বা তার দল—কেউই তা জানে না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন