প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় মো. ফারুক ওরফে শহীদ (৫০) নামে এক বিএনপি নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনার জন্য অভিযুক্ত দুই যুবককে আটক করা হয়েছে এবং গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।
নিহত শহীদ ছিলেন উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক এবং তিনি স্থানীয় তেঁতুলতলা বাজারের একজন ব্যবসায়ী। আটককৃতদের মধ্যে একজন হলেন মো. আরশাদ ওরফে আকাশ (২৪), যিনি একই গ্রামের মুন মুন্সিবাড়ির আল আমিনের ছেলে। অন্যজন হলেন মো. সাজ্জাদ হোসেন আকাশ (১৯), যিনি আকবর পুত্রের বাড়ির দুলালের ছেলে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে এ বিষয়ে নিশ্চিত করেন কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোমেল বড়ুয়া। এর আগে, বুধবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের তেঁতুলতলা বাজার সংলগ্ন পল্লী বিদ্যুতের সাব-স্টেশনের সামনে মো. ফারুককে ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার সময় রাত ২টার দিকে চৌমুহনী চৌরাস্তা এলাকায় তার মৃত্যু ঘটে।
নিহতের বড় ছেলে মো. ইমরান হোসেন বলেন, আকাশ মাঝে মাঝে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালাতেন এবং এলাকায় তিনি মাদকসেবী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। উপজেলা ছাত্রদল নেতা জহির তার বেপরোয়া মাদকসেবনের প্রতিবাদ করেছিলেন। গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে স্থানীয় তেঁতুলতলা বাজারের একটি দোকানে আকাশের মাদকসেবন নিয়ে আলোচনা হয়। ওই সময় আকাশ বেপরোয়া আচরণ করে ছাত্রদল নেতা জহিরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘তিনি তার মাদকসেবনের প্রতিবাদ করার কে?’ তখন তার বাবা ফারুক বলেন, ‘তুমি কাউকে মানো না।’ একপর্যায়ে আকাশের সঙ্গে তর্কাতর্কির পর তাকে দোকান থেকে বাইরে বের করে দেওয়া হয়।
ইমরান আরও জানান, পরের দিন বুধবার সকালে আকাশ তার বাবাকে হত্যার হুমকি দেন। পরে রাতের বেলায় দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে তেঁতুলতলা বাজার সংলগ্ন পল্লী বিদ্যুতের সাব-স্টেশনের সামনে আকাশ পেছন থেকে তার বাবার মেরুদণ্ডে ছুরিকাঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় ফারুককে প্রথমে কবিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথে চৌমুহনী চৌরাস্তা এলাকায় তার মৃত্যু হয়।
ওসি রোমেল বড়ুয়া আরও জানান, মাদকসেবনের প্রতিবাদ করার কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে আটক দুজন আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন