প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহধর্মিণী এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান মেডিকেল শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন যে, চিকিৎসক হিসেবে পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ এবং দেশপ্রেম ধারণ করে দেশের মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করতে হবে। বিশেষভাবে গ্রামাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য নতুন প্রজন্মের চিকিৎসকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
আজ রাজধানীর হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতাল ও কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও শিক্ষা ক্ষেত্রে কৃতিত্বের জন্য সম্মাননা-২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ডা. জুবাইদা রহমান শিক্ষা ক্ষেত্রে কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান এবং তাদের কঠোর শিক্ষাজীবনের মধ্যেও সাংস্কৃতিক চর্চা অব্যাহত রাখার জন্য প্রশংসা করেন। এর আগে তিনি কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা সনদ তুলে দেন।
তিনি বলেন, সংস্কৃতি হচ্ছে মানব সভ্যতার ভিত্তি। চিকিৎসাবিজ্ঞানে অধ্যয়নের সুযোগ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা দেশের অন্যতম মেধাবী। কিন্তু মেধার পাশাপাশি মানবিক মন নিয়ে একজন চিকিৎসক অসুস্থ মানুষের সেবার মাধ্যমে জীবনের প্রকৃত সার্থকতা অর্জন করেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, মেডিকেল শিক্ষার্থীরা বিদেশে উচ্চতর ডিগ্রি ও প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফিরে এসে মানুষের পাশে দাঁড়াবেন এবং সংকটকালীন সময়ে চিকিৎসাসেবা প্রদান করবেন।
ডা. জুবাইদা রহমান বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, দেশে প্রতি এক হাজার মানুষের বিপরীতে চিকিৎসকের সংখ্যা মাত্র ০.৮৩। একজন চিকিৎসককে প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ রোগীর সেবা দিতে হয়। গ্রামাঞ্চলে এই সংকট আরও প্রকট হয়ে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, দেশের ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ চিকিৎসক শহরাঞ্চলে কর্মরত থাকলেও প্রায় ৭৮ শতাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করেন। নার্সের সংখ্যাও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত মানের তুলনায় অনেক কম।
তিনি যোগ করেন, সরকারি চিকিৎসকদের অনুপাতও অত্যন্ত কম হওয়ার কারণে চিকিৎসা ব্যয় এখনও দারিদ্র্যের অন্যতম কারণ হয়ে রয়েছে। শিক্ষা জীবনে শিক্ষার্থীরা দেশসেবার অঙ্গীকার নিয়ে এগিয়ে এলে ভবিষ্যতে এ পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব হয়ে উঠবে।
এছাড়া, ডা. জুবাইদা রহমান আরও বলেন যে, এমন একটি চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে, যেখানে চিকিৎসার অভাবে কোনো গ্রামবাসী প্রাণ হারাবে না এবং কোনো অন্তঃসত্ত্বা মা কিংবা নবজাতক প্রতিরোধযোগ্য কারণে মৃত্যুবরণ করবে না।
তিনি বলেন, সবার স্বাস্থ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এ লক্ষ্য অর্জনে নতুন প্রজন্মের চিকিৎসকদের এগিয়ে আসতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন