প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শক্তিশালী টাইফুন বাভির প্রভাবে চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। চলতি বছরে মূল ভূখণ্ড চীনে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী এই ঝড়ের কারণে লিয়াওনিং প্রদেশ থেকে ২ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। টাইফুনটি দক্ষিণের উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চল থেকে বিপুল পরিমাণ আর্দ্রতা উত্তর দিকে টেনে আনছে, ফলে উত্তর চীনের বিস্তীর্ণ এলাকায় টানা ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
লিয়াওনিং প্রদেশের রাজধানী শেনইয়াং শহরে বন্যার পানিতে একটি বাতিঘর ভেসে যাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, বাতিঘরটি উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুৎ লাইন ছিঁড়ে প্রধান সড়ক দিয়ে ভেসে একটি সেতুর নিচ দিয়ে চলে যাচ্ছে।
পরিস্থিতির অবনতির কারণে শেনইয়াং ও জিলিনসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন শহরে সব স্কুল ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে গণপরিবহন ও অন্যান্য পরিবহনসেবাও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ফ্রান্সের সমান আয়তনের এই টাইফুনটি ১৩ দিন আগে প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্টি হয়। গত শনিবার রাতে পূর্ব চীনে আঘাত হানার পরও এর কাঠামো অনেকটাই অক্ষত রয়েছে। এ কারণে এটি চলতি বছরে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে।
চীনের আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টাইফুন বাভির কেন্দ্রের উষ্ণ অংশ অস্বাভাবিকভাবে অক্ষত থাকায় এটি উত্তর দিকে অগ্রসর হওয়ার সময়ও প্রচুর আর্দ্রতা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে এটি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়ে পরিণত হলেও ধীরগতিতে অগ্রসর হচ্ছে। ফলে জমে থাকা বিপুল পরিমাণ জলীয়বাষ্প বৃষ্টির আকারে ঝরে পড়তে পারে, যা উত্তর চীনের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।
স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়ার এবং দুর্যোগ-সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন