প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, বিশ্বের অন্যান্য সব দেশের মতো ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রাখার বৈধ অধিকার থাকলে তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপানোর কোনো বৈধতা থাকতে পারে না। তিনি আন্তর্জাতিক মহলের এই দ্বিচারিতাকে একেবারে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন।
ইসলামাবাদে সফররত ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির পেছনের তথ্য তুলে ধরেন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’-এ ইরানের ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয়টি কোনোভাবেই অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
শেহবাজ সরাসরি বলেন, "আমি পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি যে এই সমঝোতায় ক্ষেপণাস্ত্রের কোনো উল্লেখ নেই। এটি আলোচনা টেবিলে বা আলোচ্যসূচিতে কখনোই ছিল না এবং ইরানি পক্ষ এটি নিয়ে কোনো কথা বলতে চায়নি।"
বৈঠকে আন্তর্জাতিক রাজনীতির দ্বিমুখী নীতির কঠোর সমালোচনা করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বিশ্বে কোনো ধরনের দ্ব্যর্থবোধক নীতি থাকতে পারে না, যেখানে কিছু নির্দিষ্ট দেশ ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে আর ইরান তা পারবে না।" তিনি এই ধরনের কপটতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন।
তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে বৈশ্বিক কিছু কুচক্রী মহল বা ‘স্পয়লার্স’ এই শান্তি চুক্তিটিকে নষ্ট করার জন্য নানামুখী অপতৎপরতা চালাচ্ছে, যেন ইরান একটি মহান জাতি হিসেবে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে আবার দাঁড়াতে না পারে।
সম্প্রতি ভ্যান্সের দাবি নাকচ করে, ইরান জানিয়েছে যে ক্ষতিগ্রস্ত পরমাণু স্থাপনা পরিদর্শনে আইএইএ’কে অনুমতি দেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর এটি ছিল ইরানের রাষ্ট্রপতির প্রথম বিদেশ সফর। ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের সফল মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধের অবসান ঘটে এবং গত সপ্তাহে একটি আনুষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
শান্তি আলোচনা এবং যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়াকে সফল করতে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সমর্থন দেওয়ার জন্য তিনি তুরস্ক, কাতার, সৌদি আরব এবং মিসরের রাষ্ট্রপ্রধানদের প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। আগামী সপ্তাহে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে তিনি তেহরান সফরের পরিকল্পনা করেছেন।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন