প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নেত্রকোনার চল্লিশা এলাকায় একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মারধর ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থী, ওলামায়ে কেরাম ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে চল্লিশা বাজার এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চল্লিশা কেন্দ্রীয় মসজিদে ফজরের নামাজের পর কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়া করাকে কেন্দ্র করে মসজিদ কমিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরে মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মাদ্রাসার বড় হুজুর মাওলানা মো. নজরুল ইসলাম খানের অভিযোগ, দীর্ঘ ২২ বছর ধরে সেখানে ধর্মীয় কার্যক্রম চলে আসছে। সম্প্রতি মসজিদ কমিটিকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মারধর করা হয়। এ সময় মাদ্রাসার আসবাবপত্র ও পবিত্র কোরআন শরিফেরও ক্ষতি করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী তানভীরের ভাষ্য, ফজরের নামাজের পর ধর্মীয় কার্যক্রম পালনের সময় আব্দুল হামিদ নামের এক ব্যক্তি বাধা দেন। বিষয়টি মসজিদ কমিটিকে জানানো হলে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে বিরোধের জেরে আব্দুল হামিদ তাঁর ছেলে ও অন্যদের নিয়ে এসে হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় তাঁকেসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মারধর করা হয়।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ সাকিবের অভিযোগ, হামলার সময় আশপাশের লোকজনকেও মারধর করা হয়। এমনকি পাশের বাড়িতে ঢুকে নারীদের সঙ্গেও অসদাচরণ ও ধাক্কাধাক্কি করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ ঘটনায় আহত কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভুক্তভোগী মো. গিয়াস উদ্দিন এ ঘটনায় নেত্রকোনা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
বুধবার দুপুরে চল্লিশা বাজার এলাকায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। বক্তারা বলেন, ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে কঠোর আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
নেত্রকোনা জেলা খেলাফত আন্দোলনের সদস্যসচিব গাজী আব্দুর রহিম রুহি এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের প্রভাব-প্রতিপত্তি বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
নেত্রকোনা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়িতে পুলিশ গিয়েছিল। তবে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। গ্রেপ্তার করা গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন